কেফায়েত উল্লাহ
মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি

২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নিষ্ঠুরতম লগি-বইঠার তাণ্ডবে সংগঠিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এবং শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৩ ঘটিকার দিকে জেলা সদরের টাউন হল মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খাগড়াছড়ি জেলার আমীর অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল মোমেন ‘র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, ২০০৬ সালের এই দিনে সন্ত্রাসী দল আওয়ামী লীগ আমাদের ১৪ জন ভাইকে লগি বৈঠার নির্মম তাণ্ডব চালিয়ে হত্যা করে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আয়নাঘর, গুম ও খুনের মাধ্যমে শহীদি কাফেলা জামায়াত শিবিরের শত শত নেতাকর্মীদের হত্যা করে।

লাশের উপর আওয়ামী লীগের দানবদের উদ্দাম নৃত্য সে দিন সারা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ভেবেছিল জামায়াত-শিবির শেষ হয়ে যাবে। তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। জামায়াত-শিবির কয়েকগুণ বেশি শক্তি নিয়ে বাংলার জমিনে হাজির হয়েছে।

জামায়াত-শিবিরকে শেষ করতে গিয়ে তারা নিজেরাই চীরতরে শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ।

প্রধান অতিথি বলেন, শাহাদাত আমাদের তামান্না। শাহাদাত যাদের তামান্না তারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের গুম, খুন ও আয়নাঘরকে ভয় পায়না।

অধ্যাপক আহসান উল্লাহ আরও বলেন, আমরা শুধু লগি-বইঠা তাণ্ডবের বিচার চাইনা ; ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের সন্ত্রাস ও হত্যাকাণ্ডের চাই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি করেন তিনি।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিনহাজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল মান্নান, ইসলামি ছাত্র শিবিরের জেলা সভাপতি মাঈনুদ্দীন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল জলিল, রামগড় উপজেলা সেক্রেটারি আনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন উপজেলার সভাপতি ও সেক্রেটারিবৃন্দ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো: ইউছুফসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।