নিউজ ডেস্ক
আমাদের দেশের মানুষ সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং সকল ধর্মের মানুষ বন্ধুত্বপূর্ণভাবে থাকতে ভালোবাসে। এটা কখনোই ভাঙবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হাইকোর্ট।চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনাটি রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট তৎপর রয়েছে বলে জানানো হলে বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রামের আইনজীবী হত্যার ঘটনার সরকারের পদক্ষেপের অগ্রগতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন আদালতকে বলেন, এই ঘটানাটিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এরই মধ্যে ৩ টি মামলা হয়েছে। একটিতে ১৩ জন, একটিতে ১৪ জন ও অপর একটি ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ৬ জনকে সনাক্ত করা হয়েছে।
এসময় হাইকোর্ট বলেন, ‘রাষ্ট্র সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এটা শুনে আমরা আস্বস্ত হলাম। এটাই ওনাদের দায়িত্ব। আশা রাখি সাবাই এটা শুনে আস্বস্ত হবেন। দেশের জানমালের কোন ক্ষতি না হোক আমরা সেটাই চাই। যেহেতু সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলা হলো তাই এই মুহুর্তে আদালত আর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন দেখছে না। আমরা মনে করি আমাদের দেশের মানুষ সৌহার্দপূর্ণ। এদেশে সকল ধর্মের মানুষ বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে থাকতে ভালোবাসে। সে ভালোবাসা কখনোই ভাঙবে না। আর আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গেও আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে।’
গতকাল বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে ইসকন নিষিদ্ধ চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনির উদ্দিন। সেই সাথে এই আইনজীবী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রামের ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আবেদন করেন এবং অন্তত দুই সপ্তাহ জরুরী অবস্থা জারির আবেদন জানান।
একপর্যায়ে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের মো: আসাদুজ্জামানের বক্তব্য শুনেন। অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল হাইকোর্টকে বলেন, ‘ইসকনের ইস্যুটি দুর্ভাগ্যজনক। এটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং ফৌজদারি অপরাধ। সরকার গুরুত্ব সহকারে ঘটনাটি দেখছেন এবং যথাযথ আইনী পদক্ষেপ সরকার নেবেন। তবে এই সংগঠন (ইসকন) রেজিস্ট্রার্ড কি না? এই সংগঠন নিষিদ্ধ হবে কি না? এই সংগঠনের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এই সংগঠনের অস্তিত্ব কি? এর সবকিছু সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের (পলিসি ডিসিশানের) বিষয়। সরকার এটার খোজ খবর নিয়ে যথাযথ আইনি ভাবে দেখবেন। এই পর্যায়ে কোন রুল ও নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। সবকিছু পর্যালোচনা করে তার পর যদি মনে হয় তখন দেখা যেতে পারে।’
গতকাল হাইকোর্ট এবিষয়ে অগ্রগতি বুধবার জানাতে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী রাষ্ট্র পক্ষ বুধবার হাইকোর্টকে আইনজীবী হত্যার ঘটনাটিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়টি অবগত করেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও হাটহাজারীর পুন্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ আদেশের পর আদালত চত্ত্বরে চিন্ময়ের বিক্ষুব্ধ অনুসারীরা প্রিজনভ্যানের চারদিকে শুয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আদালত এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে রঙ্গম কমিউনিটি সেন্টারের পাশে সহকারি সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাইফুল ইসলাম লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। সাইফুল ইসলাম আলিফ চট্টগ্রাম ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য।

