মোঃ হাছনাইন
তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সকল ধর্ষনের বিচার ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আজ ১২ মার্চ’২৫, দুপুর ২:০০ টায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ মাহমুদুল হাসান এর সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক এইচএম ইয়ামিন ইরফান এর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি আব্দুল মোমিন।

প্রধান অতিথি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সকল ধরনের বিচার ও দর্শকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিতে আজকের বিক্ষোভ সমাবেশ। আমরা যেজন্য আজ বিক্ষোভ মিছিল একত্রিত হয়েছি সেটি বর্তমানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ইসলামই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে। ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজ থেকে ধর্ষণ ও সকল প্রকার অনৈতিকতা নির্মূল করা সম্ভব। ধর্ষণকে সমাজ থেকে নির্মূল করতে হলে আমাদের ইসলামকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলেই এদেশ থেকে ধর্ষন নির্মূল করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে আজকে আমরা যে শাহাবাগীদের আন্দোলনে দেখতে পাই, তাদের পোষাক পরিচ্ছদে যুবসমাজকে ধর্ষনের দিকে আকৃষ্ট করে। অতএব বলতে চাই ধর্ষনকে বন্ধ করতে হলে আমাদের নারীদের অবাধ চলাফেরায় খোলামেলা পোশাককে নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশের আইন সঠিকভাবে কার্যকর না হওয়া এবং নারীদের খোলামেলা চলাফেরায় আমাদের দেশে ধর্ষন মহামারী আকারে ধারণ করেছে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলবো দ্রুত বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, দেশব্যাপী লাগাতার ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশে ধর্ষণ আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও আমাদের মা-বোনেরা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অথচ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এসব অপরাধ দমনে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। জেলা সভাপতি তার বক্তব্যে শেষে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষকের শাস্তির বিধান কার্যকর করার জন্য দাবি পেশ করেন- “ধর্ষণের বিচার নিশ্চিতের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার বিধান রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে”।

বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা তাদের বক্তব্য বলেন, ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময় আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম, কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও আমরা স্বাধীনভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা পায়নি। দীর্ঘ ৫৩ বছরে আমরা বিভিন্ন দলের শাসন দেখেছি কিন্তু কেউই এই দর্শকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে পারেনি। কিন্তু আমরা দুঃখের বিষয় এখনো বলতেছি যে, ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেওয়ার পর দীর্ঘ ছয় মাসে আবারো ধর্ষন মহামারি রূপ ধারণ করেছে। এই ছয় মাসে ১৮০ জন আমাদের মা বোন ধর্ষিতা হয়েছে এরমধ্যে ৬৭ জন শিশু। এরমধ্যে অন্যতম হলো মাগুরায় শিশু আচিয়াকে নরপিশাচদের মতো তিন জন মিলে গনধর্ষণ করে। যা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করেছে।

আজকে আমাদের সকলের একটাই দাবি, দর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আইন কার্যকর করে জনসম্মূক্ষে ফাঁসি দিতে হবে। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সূরা সদস্য মুহাম্মাদ আবু জাফর।

বিক্ষোভ মিছিলে আরো উপস্থিত বক্তব্য রাখেন, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা উত্তর শাখার সহ-সভাপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, দাওয়া সম্পাদক হোসাইন আহমেদ শাহীন, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান, আলিয়া মাদ্রাসা সম্পাদক মোঃ মাইনুদ্দিন ও ভোলা সদর থানা শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ হোসাইন আহমেদ, বোরহানউদ্দিন থানা সভাপতি এইচএম ইসমাইল ও দৌলতখান থানা সহ-সভাপতি মুহাম্মদ কেফায়েত, ভোলা সরকারি কলেজ সহ-সভাপতি মুহাম্মদ হাসান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ ওমর সহ জেলা, থানা ও ইউনিয়নের প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।