নিউজ ডেস্ক
পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরের ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবৈধ ব্যাটারি ফ্যাক্টরির নিঃস্বরিত এসিড ও সীসার প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ; দূষিত হচ্ছে বাতাস, গুণগত মান ধরে রাখতে পারছেনা ফসলি জমি। ফলে আবাদি কমে যাচ্ছে; নষ্ট হচ্ছে ফসল। বিষক্রিয়ায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যু, নানা ধরণের চর্মরোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু জনিত রোগের প্রভাব এমনই হচ্ছে কোন শিশুকেই সুস্থ বলা চলে না।
সব বয়সী মানুষ ও প্রাণী রোগাক্রান্ত। দেশীয় প্রজাতির মাছ এমনকি কীটপতঙ্গ ও পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠছে ঐ এলাকায়। জীব বৈচিত্রে আঘাত হানছে চরমভাবে। গবাদিপশু-পাখি দূরাগ্যরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছে। মাটি যেন পাথরে রূপান্তরিত হচ্ছে।

সরকারিভাবে বারবার বন্ধের পরও প্রভাব দেখিয়ে নবউদ্দ্যোমে শুরু হচ্ছে ফ্যাক্টরির কার্যক্রম। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী ফ্যাক্টরি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করলে এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে করা হয় মিথ্যা মামলা। আটক করা হয় কয়েকজন এলাকাবাসীকে।
এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর দাবীর পক্ষে তাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং তার বিষক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ও নরসিংদী জেলা নেতৃবৃন্দ।
এসময় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্থ আবাদি জমি পরিদর্শনের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, এখানে আসার আগেই আমাদেরকে চাদাবাজ আক্ষায়িত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর পক্ষে দাড়ালে যদি চাদাবাজ হয় তাহলে আমরা চাদাবাজ।
আমরা দেখেছি এই ফেক্টরির কোন ধরণের বৈধতার সার্টিফিকেট নেই। এটা বন্ধে আমরা সর্বোচ্চ অথরিটির সাথে যোগাযোগ করবো। তাদের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহার করাবো এবং যিনি আটক আছেন তাকে ছাড়াবো।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির উত্তরাঞ্চলের কেন্দ্রীয় কমিটির সংঘঠক এড. শিরিন আক্তার শেলি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করায় মামলায় আটক হলো নিরিহ জনগণ। আমরা কোন কোম্পানির বিরুদ্ধে কথা বলছিনা; তবে পরিবেশ বান্ধব; জনকল্যাণমুখী হলে এটা এলাকাবাসীর জন্য ভাল। কিন্তু ফ্যাক্টরিটির কোন ধরণের বৈধতার সার্টিফিকেট নেই। তার ন্বিঃসরিত ক্যামিক্যাল-এসিড পরিবেশের মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করছে। মাটি-পানি ফসলাদি নষ্ট করছে। মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। আমরা এটা নিয়ে অথরিটির সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলবো।
অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা সংগঠক আওলাদ হোসেন জনি, পলাশের সংঘঠক জনি ভুইয়া, সাইুদল ইসলাম রাকিব, ছাত্রনেতা গোলাম রেশাদ তমাল, আশরাফুল ইসলাম তানিমসহ নরসিংদী জেলা ও উপজেলার এনসিপির নেতাকর্মী এবং ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা সাধারণ জনতা।

