বিজয় কর রতন
মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের হেমন্তগঞ্জ এলাকার কৃষক জজ মিয়ার (৬৫) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে রহস্য। এ ঘটনায় মিঠামইন থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। জজ মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার হেমন্তগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। ঈদের আগের দিন ৩০ শে মার্চ রবিবার হেমন্তগঞ্জ বাজার মসজিদের সামনে মারা যানা তিনি।

জজ মিয়ার পরিবারের দাবি দুপক্ষে ঝগড়া থামাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে আঘাতে মারা যান তিনি।কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাসেম মিয়া বলেন, বিএনপি সমর্থিত লোকজনের শালিশে হামলার কারণে জজ মিয়া মারা যান।তবে পুলিশ ও প্রত্যক্ষাদর্শী এবং এলাকাবাসী বলছে ভিন্ন কথা। সরজমিনে রবিবার সকালে ঘটনার মূল বিষয়টি জানার জন্য হেমন্তগঞ্জ গ্রামে গেলে প্রথমেই কথা হয় ঘটনার প্রত্যক্ষাদর্শী দর্জি কারিগর আইনুল হকের সাথে।

তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন রবিবার আছরের নামাজের পর জজ মিয়া পা পিছলে পড়ে গেলে দুজন লোক ধরাধরি করে মসজিদে নিয়ে আসে।পরে তার মাথায় পানি দেওয়া হয়। এখানে কেনো ঝগড়া হয়নি। অপর প্রত্যক্ষাদর্শী শহীদ মিয়া বলেন,ইফতারের আগে জজ মিয়া আমার সামনেই দাড়ানো ছিল। হঠাৎ দেখি তিনি মাথা ঘুরে পড়ে গেছেন।সঙ্গে সঙ্গে তার মাথায় পানি দেই,পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়।এখানে কোনো ঝগড়াঝাটি হয়নি।কিন্তু চেয়ারম্যান বলে বেড়াচ্ছেন জজ মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।

একই কথা বললেন আরেক প্রত্যক্ষাদর্শী মদন মিয়া।তিনি বলেন,ইফতারের আগে জজ মিয়া মুসুল্লিদের সাথেই ছিলেন।হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। তাকে আমরা খুলে করে মসজিদের দুয়ারে এনে মাথায় পানি দেই।পড়ে পরিবারের লোকজন এসে জজ মিয়াকে নিয়ে যায়। জজ মিয়ার ছেলে আলিআজগর বলেন,এলাকায় দুপক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে ফেরাতে যান তার বাবা তখন বুকে আঘাত লেগে মারা যান তিনি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে তিনি এর বিচার দাবি করেন।

স্থানীয় একজন চিকিৎসক ডাক্তার হাবিবুর রহমান জানান,৩০ শে মার্চ রবিবার বিকালে জজ মিয়াকে তার কাছে আনা হয়।তখন পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন তিনি আর বেঁচে নেই।এছাড়াও হেমন্তগঞ্জ গ্রামের অনেকের সাথেই কথা হয় কিন্তু সংঘর্ষের কোনো ঘটনা এই এলাকায় ঘটে নাই বলে জানান।কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিষয়টিকে এলাকার বিএনপি  নেতা কর্মীদের উপর দায় চাপিয়ে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করার পরিকল্পনা করছে বলে তারা জানান।

মিঠামইন থানার ওসি শফিউল আলম জানান,পূর্ব শক্রতাবশত:ঈদের আগের দিন দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয় এতে কেউ আহত হয়নি।ঘটনার স্হল থেকে ৫০০ গজ দূরে একটি মসজিদের সামনে জজ মিয়া পা পিছলে পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা যান।