
মাহমুদুল হাসান
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার পঞ্চাশকুড় দাখিল মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মাদ্রসার সুপারকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেছে আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার রাতে লিখিত করেছেন ভুক্তভোগী মাদ্রাসা প্রধান।
লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে যে, গতকাল রবিবার(১৩ এপ্রিল) বিকালে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নীচে পঞ্চাশকুড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার (প্রধান) হাদিউল ইসলামকে পিঠিয়ে আহত করেছেন ৩ শিক্ষক।

অভিযুক্তরা হলো- মনোহরদী সরদার আছমত আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন মোরাদ, মনোহরদী সরকারি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক খলিলুর রহমান এবং মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের শিক্ষক লুৎফুর রহমান।
অভিযোগ আরও বলা হয় যে,অন্তিরবর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি সকল মাদ্রাসায় পূর্বের সকল এডহক কমিটি বাতিল ঘোষনা করলে মাদ্রাসাটির নতুন করে এডহক কমিটি গঠন করার জন্য এলাকার সবাইকে অবহিত করা হয়। এদের মধ্যে মনোহরদী সরদার আছমত আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন মোরাদ সরকারি বিধি বিধান তোয়াক্কা না করে পেশী শক্তির বলে মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি হতে চাই। কমিটি গঠন বিষয়ে গত ১০ এপ্রিল মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠনের জন্য মাদ্রাসায় এক সভার আহবান করা হয় এবং অভিযুক্ত সভায় কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয় যে, গত ১৩ এপ্রিল রবিবার বিকাল ৩ টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষক মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসেন। পরে, ৪টার দিকে অভিযুক্তরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নীচে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।
পরে, ভুক্তভোগী নিয়মতান্ত্রিক ভাবে মাদ্রাসার সভাপতি নির্বাচন করা হবে, এমন বক্তব্যের পর অভিযুক্ত ফরহাদ হোসেন মোরাদের নেতৃত্বে মনোহরদী সরকারি কলেজের ইংরেজি প্রভাষক খলিলুর রহমান এবং মনোহরদী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক লুৎফুর রহমান ভুক্তভোগীকে মারধর করে।
পরে, উপস্থিত লোকজন এসে উদ্ধার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে নিয়ে যায়। অভিযোগে আরও বলা হয় যে, অভিযুক্তরা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ও নরসিংদী-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের অনুসারী।
তবে, অভিযুক্ত মনোহরদী আসমত আলী ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন মুরাদ বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়ে অবগত আছি এবং অভিযোগ গুলো মিথ্যা। মাদ্রাসার সুপার হাদিউল ইসলাম আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও মাসুদুর রহমানকে এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করতে চাই, সে বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি, আমি তাকে মারধোর করি নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সাবেক সংসদ সদস্য ও নরসিংদী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে উনার সাথে ভালো সম্পর্ক আছে কিন্তু সরাসরি কোনো রাজনীতি করি না।”
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। “
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “উভয় পক্ষ থেকে কমিটির বিষয়ে চিঠি পেয়েছি কিন্তু চিঠিতে কি লিখা হয়েছে, তা জানা নেই। আজকে পহেলা বৈশাখ হওয়ায় ব্যাস্ত আগামীকাল অফিসে গিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো। তাদের মধ্যে কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে কিনা তাও জানি না এবং মারধোর করার বিষয়ে আমি অবগত নয়। আগামীকাল কার্যালয়ে এসে চিঠি দেখে কমিটি গঠনের বিষয়ে সভা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ হবে।

