বিশেষ প্রতিনিধি

২৫ মে ২০২৫, রোববার, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আজ সকাল ১১টায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শিক্ষা বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান প্রস্তাবনা পাঠ করেন সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান। শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি গবেষণাভিত্তিক, নৈতিকতা সমৃদ্ধ ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০ দফা দাবিতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন তিনি।

২০ দফা মূল দাবি:

১. গবেষণাবান্ধব শিক্ষামুখী বাজেট প্রণয়ন।

২. সকল শিক্ষার্থীর ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন।

৩. শিক্ষার সর্বস্তরে কুরআন ও ধর্মীয় শিক্ষার নিশ্চয়তা।

৪. প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে বরাদ্দ।

৫. প্রযুক্তিনির্ভর আনন্দঘন শিক্ষাদান ব্যবস্থা।

৬. কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ৩০%-এ উন্নীতকরণ।

৭. আন্তর্জাতিক মানের মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন।

৮. প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যয় হ্রাসে রাষ্ট্রীয় নজরদারি।

৯. শিক্ষিত বেকারদের জন্য সহজ শর্তে ঋণব্যবস্থা।

১০. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও নিরাপদ প্রতিষ্ঠান স্থাপন।

১১. বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত ক্যান্টিন ও সিট ব্যবস্থা।

১২. কওমি মাদরাসায় বাজেট বরাদ্দ।

১৩. তাকমিল ডিগ্রির সমমান নিশ্চিতকরণ ও কর্মসংস্থান।

১৪. কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ।

১৫. আলিয়া মাদরাসা অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ।

১৬. প্রতিটি উপজেলায় কামিল মাদরাসা স্থাপন।

১৭. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বাজেট বৃদ্ধি।

১৮. মৌলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার প্রদান।

১৯. মুখস্তনির্ভরতা ও সার্টিফিকেটনির্ভরতা থেকে মুক্তি।

২০. প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ স্থাপন।

খাতভিত্তিক প্রস্তাবনা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা: স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নিরক্ষরতার হার উদ্বেগজনক—প্রতি চারজনে একজন নিরক্ষর। বাজেট বৃদ্ধি করে নিরক্ষরতা নিরসনে ২০% বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা: বর্তমানে ভর্তির হার ১৭.২% এবং শিক্ষিত বেকার ৪৭%। দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে বরাদ্দ ৩০% বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: গবেষণা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর অযৌক্তিক চাপে নিষেধাজ্ঞা, এবং বাজেটের অন্তত ১০% গবেষণায় বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার মান নিশ্চিত, শিক্ষক সংকট নিরসন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির দাবি জানানো হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার্থীপিছু বার্ষিক বরাদ্দ মাত্র ৭০২ টাকা; এর বহুগুণ বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসা: কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কওমি মাদ্রাসায় বাজেটের অন্তত ১০% বরাদ্দের আহ্বান এবং আলিয়া মাদ্রাসায় অবকাঠামো উন্নয়নে বাজেট বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: গবেষণা, ল্যাব, আবাসন, ইন্টার্ন ভাতা, নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক পৃথক কোর্স সংযোজনের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়।

ল কলেজ: মানবাধিকার ও ইসলামী আইন সংক্রান্ত কোর্স সংযোজনের দাবি জানিয়ে বার কাউন্সিল উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ চাওয়া হয়। শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান: প্রতি বছর ২০-২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম ব্যক্তি শ্রমবাজারে যুক্ত হলেও পর্যাপ্ত চাকরি নেই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ, জামানতবিহীন ঋণ ও নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বেকারত্ব ও সামাজিক নিরাপত্তা: ২ কোটি বেকার ও ৩.৫ কোটি দরিদ্র মানুষের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

শিক্ষা বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা: সম্মেলনে বক্তারা শিক্ষার আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাজেটের ২০% বা জিডিপির ৬% শিক্ষা খাতে বরাদ্দের জোর দাবি জানান। তারা বলেন, “স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে শিক্ষা খাতে হতে হবে সততা, দক্ষতা ও নৈতিকতা সমৃদ্ধ গবেষণাভিত্তিক বাজেট।”

উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ মিশকাতুল ইসলাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ইমরান হুসাইন নূর, প্রশিক্ষণ সম্পাদক হোসাইন ইবনে সরোয়ার, দাওয়াহ ও দফতর সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলিল, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক এস এম কামরুল ইসলাম, যোগাযোগ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক উবায়দুল্লাহ মাহমুদ, কওমি মাদরাসা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ ইমাম মাহদী, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আবদুল আজিজ নোমান, কার্যনির্বাহী সদস্য এম ইব্রাহীম নাসরুল্লাহ ও সাইফ মুহাম্মদ আলাউদ্দিনসহ ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দ।