ওমর ফারুক
স্টাফ রিপোর্টার:
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজধানীর ঢাকা। গত কয়েক বছরে এত শীত অনুভূত হয়নি বলে জানিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহের কাছাকাছি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তবে ঢাকার আশপাশের কিছু জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই-এক দিন শীতের তীব্রতা এমনই থাকতে পারে। মাঝে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে আবার তা কমতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ শাহীনুর ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত কয়েক দিনের মতো আগামীকালও দেশের বেশির ভাগ এলাকাজুড়ে তীব্র শীত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে রোদ আসতে না পারায় তাপমাত্রা বাড়ছে না। কুয়াশা কাটলে শীত কমে আসবে।
শীতের কাঁপুনি বেশি অনুভূত হওয়ার কারণ হিসেবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দেশে দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম থাকছে। এছাড়া সাধারণত শীতকালে বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকলে শীতল বাতাস বাধা পায়। চার দিন ধরে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমেছে। ফলে উত্তরাঞ্চল দিয়ে শুষ্ক ও শীতল বাতাসের প্রবাহ বেড়েছে।
শীত বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে তারা আরও বলছেন, দেশের নদ-নদী ও গঙ্গা অববাহিকা দিয়ে আসা কুয়াশা মিলেমিশে একটি আস্তর তৈরি করেছে। যে কারণে সূর্যের আলো ভূমিতে প্রবেশ করতে পারছে না। এতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও, শীতের অনুভূতি বেড়েছে।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৪। আর আজ ঢাকায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদফতরের আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা পার্থক্য কমে যাওয়ার কারণে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।
এদিকে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত রাজধানীর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে ছিন্নমূল মানুষেরা। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শীতজনিত রোগ-বালাইও বেড়েছে। জ্বর-কাঁশিসহ নানা রোগী নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।

