বিশেষ প্রতিনিধি
চাঁদপুর জেলার কচুয়ায় পুকুরের মাছ চুরির অপরাধে শালিশ বৈঠক করায় ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৪ জুন শনিবার চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ৮ নং কাদলা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়ার দোকানের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
জানা যায়, কচুয়া থানার ৮ নং কাদলা ইউনিয়ন পরিষদের মনপুরা গ্রামের ভেন্ডার বাড়ির মোশারফ হোসেনের পুকুরে মাছ চুরি করে নিয়ে যায় মোশারফ হোসেনের ফুফাতো ভাই মিজান।
মাছ চুরির বিষয়টি সমাধানের জন্য গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দেন ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন। গত ১৪ জুন ৮ নং কাদলা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাজাহান মিয়ার দোকানের সামনের রাস্তার উপর এই বিষয়ে শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শালিশ বৈঠকের রায় অমান্য করে চলে যায় অভিযুক্ত মিজানের ভাইয়ের স্ত্রীর বড় ভাই ৮ নং কাদলা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জালাল ও তার লোকজন।


পরবর্তীতে রাত ১০ ঘটিকায় জালাল ও তার লোকজন দেশিয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে শাজাহান মিয়ার দোকানের সামনে ফিরে এসে ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন , তার ছোট ভাই রিয়াজ ও তাদের পিতা সাহেব আলীকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে। এবং অভিযুক্ত তানজিল হোসেন ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনর স্ত্রী হাওয়া বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর জখম ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীদের সাথে থাকা নগদ ২৫,০০০ টাকা ও ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেনের স্ত্রী শাহানারা বেগম বাদী হয়ে ওয়ার্ড যুব দলের সাধারণ সম্পাদক জালাল(৩৫), আনোয়ার(৪০), নাজির(৩২), জসিমকে(৪৫) , বোরহান(২৪), ফরহাদ(৩১) ও তানজিল(২০) কে বিবাদী করে কচুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জালাল, আনোয়ার ও নাজিরকে গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তীতে মামলার প্রধান আসামী জালাল জামিনে বের হয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে হত্যা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদান করে।

