নিউজ ডেস্ক

অমীয় বাণী “দুঃখীজনের পাশে দন্ডায়মান ব্যাক্তিটিই উত্তম মানুষ” যে অন্যের সুখে হাসে এবং অন্যের দুঃখে কাঁদে পরমজন তো সেই। বুঁদিয়ামারার রাসেল; ছোটকাল হতেই যে অন্যের ঘর সাজিয়ে আসছে সুনিপুণ হাতে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে।
বিয়ে-মুসলমানি, জন্মদিন বা রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় প্রোগ্রামে রাসেলের উপস্থিতি ছিল নিবেদিত। নিজের নিপুণ হাতে সবকিছু ই সাজিয়ে দিতো। করতো ডেকোরেটর এর ব্যাবসা; টাকা-পয়সা নিয়ে কারো কাছে ঝামেলা হতোনা। সবাই তাকে নিজের মত করে ডাকতো।


চলছিল ভালোই তার। মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুন্দর পরিবারের খরচ বহণ করতো রাসেল এই ডেকোরেটর এর ব্যাবসা হতে। কিন্তু বিধি বাম! সুখের ঘরে দুঃখের বীণ বাজবে কে জানতো! তাকে পথে বসিয়ে দিবে আগুনের লেলিহান শিখা। তিলে তিলে সঞ্চিত সম্পদ নিমিষেই ছাই হয়ে গেল।
রাসেল যখন কোন কিনারা খোঁজে পাচ্ছিলোনা; এই করুণ সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে নিজ এলাকার আলেম-ওলামাগণ। ডেকোরেশন এর জন্য কাপড় ও নগদ টাকা তাকে ঋণ দিয়েছে বিনা লাভে আল ইহসান ইমাম পরিষদের পক্ষ হতে।

নরসিংদী সদর উপজেলাধীন নজরপুর ইউনিয়নের কালাই গোবিন্দপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার আগুনে পুড়ে যাওয়া ডেকোরেটরের কার্যক্রম পুণরায় শুরু করতে ২২ জুন রোববার বাদ আসর বুদিয়ামারা বাজারে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আল-ইহসান ইমাম পরিষদ বুদিয়ামারা শাখার ইমাম ও অত্র এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিসহ সাধারণ জনগণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আল-ইহসান ইমাম পরিষদের অন্যতম সদস্য মাওলানা মুফতি আল আমিন, মুফতি আওলাদ হোসেন, মুফতি আবু হানিফা ও মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ প্রমূখ।
আলোচনায় বক্তাগণ আগুনে ভষ্ম হয়ে যাওয়া ডেকোরেশন গোডাউনের মালিক রাসেল মিয়ার সুন্দর ব্যবহার তার আচার-আচরণের প্রশংসা করে তার প্রতি সকলকে বিশেষ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ইমাম পরিষদের পক্ষ থেকে ডেকোরেটের মালিক রাসেল মিয়াকে বিশ হাজার টাকার কাপড় প্রদান এবং  ৫০ হাজার টাকা নগদ ঋণ দেয়া হয় লাভছাড়া-যাকে করজে হাসানাহ বলা হয়। অবশেষে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ জুন মঙ্গলবার শেষ রাতে রাসেল মিয়ার ডেকোরেশন গোডাউনে আগুন লেগে আনুমানিক ২৩ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়। এতে সে একেবারে সর্বশান্ত হয়ে যায়।