নিউজ ডেস্ক
মিটামইনে মুক্তিযোদ্ধাদের গণসংবর্ধনা ও হাজার জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হলেন মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান। পদ স্থগিত হওয়া বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমানের পদ ফিরিয়ে দেওয়া সহ আগামী নির্বাচনে তাকে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী করার দাবিতে কিশোরগঞ্জের মিটামইনে বিএনপি নেতা কর্মীরা ও সাধারণ জনগণ মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসেন।
বুধবার ১০ ই সেপ্টেম্বর বিকেলে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিটামইন সদরে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের গণসংবর্ধনায় হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের অংশ গ্ৰহন ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা নেতা কর্মীরা ছাড়াও সাধারণ লোকজনও এতে যোগ দেন।
বিকাল চারটার দিকে মিটামইন সদরের বটতলায় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান। তার বিরুদ্ধে সারাদেশের রাজাকার আলবদরা নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন যাতে না পায় সে চেষ্টা করে যাচ্ছে।
এখন আমি কেবল চাইলেই হবে না, মনোনয়ন পেতে হলে আপনাদের বলতে হবে ফজলুর রহমানকে আমরা চাই । আমরা আমাদের পছন্দের প্রার্থীকে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিতে চাই। এসময় ফজলুর রহমান তার দলীয় পদ স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, প্রথমে আমার বিশ্বাস হয়নি যে দলের জন্য আমি সব করছি, সে দল আমাকে শোকজ করবে এটা বিশ্বাস হয়নি।
এ সময় তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়া মুক্তিযুদ্ধের যে মুখটা, এই মুখটা তো গত এক বছর ধরে আমি রক্ষা করছি। বিএনপি মুক্তিযোদ্ধার দল। শহীদ জিয়ার দল । কেবল আমিই বলেছি এসব কথা । দল থেকে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলো আমি কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছি আর ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলেছি ।
কিন্তু আমি উওর দিলাম কিন্তু মানা হলো না। জামায়াত তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, আমি ধর্ম মানি না এটা জামায়াত ছাড়া আর কেউ বলে না। তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সুফিবাদে বিশ্বাস করি। যে তরিকার এর মূল আওলিয়া হলেন হজরত আব্দুল কাদির জিলানী, খাঁজা মাঈনুদ্দীন চিশ্তি, হজরত শাহজালাল, শাহ পরান ।
সেই কারণে জামায়াত বলে ,আমি নাকি ধর্ম বিশ্বাস করি না। বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, কুমিল্লা নির্বাচনের সময় আমি সেখানে যায় এবং বক্তৃতা করি । আমি বিগত ৪ ই আগষ্ট ২০২৪ এর গন আন্দোলনের সময় কোন এক অনুষ্ঠানে বলেছিলাম শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাবে । ঠিক ৫ ই আগষ্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
আমি বলেছিলাম শেখ হাসিনা কে ক্ষমতা থেকে না সরিয়ে ঘরে ফিরবো না। তিনি আরো বলেন, দল থেকে ৩ মাসের জন্য আমার সব পদ স্থগিত করা হলো। আমি বুঝলাম না আমার অপরাধ কী । এর পরেও দলের সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিয়েছি। আপনারা ও মেনে নিয়েছেন।
আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে যুক্তি তুলে ধরে এডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, আমার জীবন শেষ। আমার এখন ৭৮ বছর বয়স । যখন নির্বাচন হবে তখন হবে ৭৯ বছর বয়স। এর পাঁচ বছর পর আবার বয়স হবে ৮৪/৮৫ বছর। তখন আবার নির্বাচন করলে মানুষ সত্যি আমাকে পাগল বলবে । কাজেই আগামী নির্বাচন এই হবে আমার শেষ নির্বাচন।
আমি আপনাদের সমর্থন নিয়ে জীবনের এই শেষ নির্বাচনটাই করতে চাই। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের বর্ননা দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ছাত্রজনতা কে মাথায় তুলে বক্তব্য দিয়েছি । কিন্তু কিছু দিন পর দেখলাম আন্দোলনের ভেতর থেকে কিছু কথা উঠতে থাকলো যা আমি মেনে নিতে পারিনি। তারা বলতেছে গনতন্ত্র/ ভোটের জন্য আন্দোলন করেনি । তারা আন্দোলন করেছে সংস্কারের জন্য।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ কে অশ্বিকার সাতচল্লিশ ও চব্বিশ কে বড় করে মুক্তিযোদ্ধ কে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির কোনো নেতা কথা বলে না। আমি তখন বললাম এই রাজাকারের বাচ্চারা মুক্তিযোদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই যারা বলছো তোমরা পাকিস্তান যাও ।
এরপর থেকেই জামায়াত ও তাদের অনুসারীরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত লিপ্ত হয়। তিনি প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাউন্সিলর আহ্বায়ক মোঃ ইব্রাহীম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ ভুঁইয়া, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া, ব্যারিস্টার অভিক রহমান ও ফজলুর রহমানের সহধর্মিণী এডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা প্রমুখ।

