মোঃ আশিকুর রহমান
আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখায় শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময় বিভিন্ন অযুহাতে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শম্ভু দেবনাথের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের দক্ষিণ আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ ঘটনায় ১২(নভেম্বর) অভিযুক্ত শিক্ষককে তার বাড়িতে দীর্ঘ আট ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। অবশেষে খবর পেয়ে দিবাগত রাত ৯ টায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে শিক্ষককে মুক্ত করে থানায় নিয়ে এসে পুলিশ হেফাজতে রাখেন।
১৩ (নভেম্বর)চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীর অভিভাবক ইমদাদুল থানায় এসে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেন। থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায় অভিযোগে উল্লেখ করা হয় জলসুখার দক্ষিণ আটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শম্ভু দেব দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময় বিভিন্ন অযুহাতে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিল।
যখন চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী রুমান্না কে শ্লীলতাহানি করে ভয়ভীতি দেখায় তখন রুমান্না বিষয়টি তার অভিবাবককে খুলে বলেন। পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থীকে তার অভিভাবক স্কুলে নিয়ে এসে শ্লীলতাহানির বিষয়টি খুলে বলে। এ সময় শ্রেণীকক্ষের ভূক্তভুগী ছাত্রীরা তার অভিযোগটি সমর্থন করে। অবশেষে অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় হেফাজতে থাকা সহকারী শিক্ষক শম্ভু দেবকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করেন।
এই বিষয় নিয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা সহকারী অফিসার ও দক্ষিণ আটপাড়া প্রথমিক বিদ্যালয়েরের মেনেজিং কমিটির সভাপতি হাসিবুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, গতকাল শিক্ষকের ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়ে উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন প্রেরন করেছি। এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ভয় কাটানোর জন্য শীঘ্রই অভিভাবকদের নিয়ে মিটিং করব।
এই বিষয় নিয়ে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোন আলাপ করলে তিনি জানান, শিক্ষক ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা শুনে গতকালই উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা সহকারী অফিসারকে ঘটনা স্থলে পরিদর্শনে পাঠিয়ে যাচাই বাচাই করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বরাবর প্রতিবেদন প্রেরন করেছি।
এই বিষয় নিয়ে আজমিরীগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম এর সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি জানান শিক্ষক শম্ভু দেবকে গতকাল অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। ভুক্তভুগী চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীর বাবা ইমদাদুল শ্লীলতাহানির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামীকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয় ।

