
হারুন শেখ
বাগেরহাটের রামপালে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন গ্রামের নারীরা। বাড়িতে উঠানজুড়ে শুকাতে দেওয়া হাজারো কুমড়ো বড়ির মিষ্টি গন্ধ জানান দিচ্ছে শীতের কর্মব্যস্ততার। নারীদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী খাবার শুধু স্বাদের জন্য নয়, এনে দিচ্ছে বাড়তি আয়ের এক নিশ্চয়তা।
শীতকাল (নভেম্বর–জানুয়ারি) বাগেরহাটের রামপালের বিভিন্ন অঞ্চলে কুমড়ো বড়ি তৈরির প্রধান মৌসুম। গ্রামাঞ্চলের বহু নারীর জন্য এটি এখন আয়ের অন্যতম সহজ পথ। কুমড়ো, মাসকলাই বা খেসারি ডালের মিশ্রণে তৈরি এই খাবারের ইতিহাস দীর্ঘ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
রামপাল উপজেলার রাজনগর ,গৌরম্ভা, ফয়লাহাট, ভাগা, সোনাতুনিয়া, গোবিন্দপুর, বাইনতলা, সগুনা, গোনা, হুড়কাসহ বিভিন্ন গ্রামে এখন ঘরে ঘরে কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম চলছে। ভোর থেকেই শুরু হয় কাজ—ডাল রোদে শুকানো, ভাঙা, পরিষ্কার করা, পানিতে ভিজানো, তারপর শীল-পাটায় বাটা। শেষে নারীরা বিভিন্ন আকারে বড়ি বানিয়ে রোদে শুকান। এক থেকে দুইদিন রোদে শুকানোর পর বড়িগুলো বিক্রির উপযোগী হয়। গড়ে একজন নারী প্রতিদিন তিন কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে পারেন, যা থেকে তাদের হয় ভালো আয়। শীতের তিন মাসের এই কাজ বহু নারীকে স্বাবলম্বী করে তুলছে। সোনাকুড় গ্রামের শাহানারা বেগম ১২ বছর ধরে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছেন।
তিনি বলেন, মাসকলাইয়ের আসল কুমড়ো বড়ি আমরা প্রতিকেজি ৩৫০–৪০০ টাকায় বিক্রি করি। নিম্নমানেরগুলো ২২০–২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। শীতের তিন মাসে যত বড়ি বানাই, তা সারা বছর বিক্রি হয়। আল্লাহর রহমতে সংসার ভালোই চলে।
তিনি জানান, শুধু রামপাল নয়—দূরাঞ্চল থেকেও পাইকাররা এসে বড়ি কিনে নিয়ে যায়, তাই বিক্রি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। রামপাল উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা শেফা বলেন, রামপালের নারীরা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে কুমড়ো বড়ি তৈরি করছেন। ঘরে বসেই মৌসুমী এই খাবার তৈরি করে তারা সংসারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। অনেক নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কুমড়ো বড়ি এখন শুধু পারিবারিক খাবার নয়, এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

