আহসানুল হক নয়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চাঁদা না দেওয়ায় হাজী নিয়ামত খাঁ (৮০) নামে এক বৃদ্ধের জোরপূর্বক স-মিল ও জমি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে মামলা করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ওই বৃদ্ধ। এছাড়া দখলের প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধ ও তার পরিবারের সদস্যদের ভূমিদস্যু চক্রটি মারধর করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূলত বৃদ্ধ হাজী নিয়ামত খাঁর ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকার সুযোগে তার জায়গা-জমিতে চোখ পড়ে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর বাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা হাজী মো. নিয়ামত খাঁ প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই মৌজার ২৯৫১ নাম্বার বিএস খতিয়ানের ৫ শতক নিজ জায়গায় গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান ও স-মিলের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তবে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শাহবাজপুর এলাকার মৃত বশির উদ্দিনের ছেলে স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগের সক্রিয় কর্মী মো. দেলোয়ার হোসেন সহ আরও কয়েকজন মিলে বৃদ্ধ নিয়ামতের কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে নানাভাবে হয়রানি করতে শুরু করে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সুরাহা করতে না পেরে গত ১৮ নভেম্বর হাজী নিয়ামত খাঁ আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলা নং সি.আর ১২৫২/২৫।

তবে মামলা করায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে দেলোয়ার ও তার সহযোগীরা। মামলা দায়েরের পরদিন (১৯ নভেম্বর) দেলোয়ার তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ নিয়ামত খাঁ’র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে তাকে মারপিট করে নগদ টাকাসহ কয়েক লাখ টাকা মালামাল লুটে নিয়ে যায়। একইসঙ্গে তার স-মিল দখলে নেয়। এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর দেলোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন বৃদ্ধ নিয়ামত খাঁ।
তবে মামলার পর থেকে হাজী নিয়ামত খাঁ ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যু চক্রটি। মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণে মারারও হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হাজী নিয়ামত খাঁ।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বৃদ্ধ হাজী নিয়ামত খাঁ’র স-মিলটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। স-মিলটির পাশেই টিন দিয়ে দোকান ঘরের মতো তৈরি করে সেখানে রেফ্রিজারেটর মেরামত খানা খুলেছেন দেলোয়ার। ভয়ে নিজের জায়গায় যেতে পারছেন না নিয়ামত খাঁ।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নিয়ামত খাঁর স-মিলের পাশে আমার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া দুই শতক জায়গা রয়েছে। আমি ওই জায়গা দখল করেছি।

তবে হাজী নিয়ামত খাঁ বলেন, যে জায়গাটি দেলোয়ার হোসেন জোর করে দখল করেছেন এখানে তার কোন ব্যক্তি মালিকানা জায়গা নেই। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট কথা। এটা আমার পৈত্রিক মালিকানা জায়গা। এখানে আমি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছি। দেলোয়ার যদি এখানে জায়গা পেতো তাহলে এত দিন কোথায় ছিলো।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সরাইল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূইয়া বলেন, এই থানায় আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি নিয়ে হাজীর নিয়ামত খাঁ রবিবার সকালে আমার কাছে এসেছিল। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছুটিতে আছেন, সে আসলে বিস্তরিত শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।