হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। হুমকির মুখে তিস্তার তীর। দীর্ঘদিন থেকে বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা খনন যন্ত্র দিয়ে বালু তুলে তা বিক্রি করছেন। সে কারণে তিস্তার ভাটিতে সারা বছর ভাঙন চলমান রয়েছে। এছাড়া ট্র্যাক্টরের মাধ্যমে বালু সরবরাহ করার কারণে ওই এলাকার রাস্তাঘাট সমুহ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অভিযোগ এলাকাবাসির।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তানদী। বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের কছিমবাজার ও হরিপুর খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছেন বালু ব্যবসায়ী মহলটি। তারা তিস্তা নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলন করে নিয়ে এসে তা দেদারচ্ছে বিক্রি করছেন।

‘কে শোনে কার কথা’  প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা সকল মহলের সাথে গোপনে আতাত করে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে দিনের পর দিন । নাম প্রকাশ না করা শর্তে কাছিম বাজার খেয়াঘাটের এক বাসিন্দা বলেন, তিস্তা নদীর মাঝখান থেকে বালু উত্তোলন করে তিস্তার তীরে নামিয়ে বিক্রি করছেন তারা। কছিমবাজার, সৈয়দ আরীর ঘাট, ফুলমিয়ার ঘাট, লালচামার ঘাট, নতুন বন্দরের ঘাটসহ কমপক্ষে ১০ হতে ১২টি পয়েন্টে  আশরাফুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী, মুন্সিসহ আরও অনেকে বালু বিক্রি করে আসছেন। বালু তোলার কারণে খেয়াঘাট এলাকার তিস্তার তীর বর্তমানে হুমকির মুখে।

 কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক জামাল উদ্দিন বলেন, তিস্তার তীরে বালু ইত্তোলন করে বিক্রি করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে বহুবার বলার পরও কোন ব্যবস্থা নেননি। স্থানীয় ইদ্রিস ও আশাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বালুর ব্যবস্থা করে আসছেন।

বালু ব্যবসায়ী  আশাফুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করে তার মতামত নেয়া সম্ভাব হয়নি।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নেম্বর রফিকুল ইসলাম বলেন, বালু উত্তোলন এবং বিক্রিয়ের বিষয়টি বহুবার উপজেলা প্রশাসকে জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালে সহকারি কমিশনার ভুমি বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করে বালু ব্যবসায়ীদের জরিমান এবং তাদের পাম্প জব্দ করেছিলেন। তারপরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। তাঁর দাবি বালু মহল চালু না হওয়া পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু তোলা বন্ধ হবে না।

সহকারি কমিশনার ভুমি চৌধুরী আল মাহমুদ বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। তারপরও যদি কেউ বালু উত্তোলণ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। তবে এই বিষয়টি তাঁর জানা নাই।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলির সাথে মোবাইল ফোনে যোগায়োগ করে তাঁর মতামত নেয়া সম্ভাব হয়নি।