বিশেষ প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনে অবৈধ ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৪, ১৮ ও ২৪ নির্বাচনের মাস্টারমাইন্ড আশরাফ উদ্দিন ওরফে নূরুল আমিন।
কে এই আশরাফ উদ্দিন ওরফে নূরুল আমিন?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা সিও অফিস সংলগ্ন নোয়াপাড়া এলাকার মৃতঃ আবদুল আউয়াল-এর একমাত্র ছেলে আশরাফ উদ্দিন ওরফে নূরুল আমিন। আশরাফ উদ্দিন ওরফে নূরুল আমিন তিন ভাই বোনের মাঝে দ্বিতীয়।
শহরের কাজীপাড়াস্থ মোজাদ্দেদ আল ফেসানী বর্তমানে কাজীপাড়া আইডিয়াল স্কুল থেকে ২০০২ সনে এসএসসি পাশ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ভর্তি হন।
আশরাফ উদ্দিনের বাবা ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে সংসারের হাল ধরতে পড়াশুনা ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান। ঢাকায় ভাল কিছু করতে না পেরে কয়েক মাস পরই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে এসে শহরের কুমারশীল মোড় আমিন কমপ্লেক্সে অবস্থিত ল্যাব এইড হাসপাতালে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরীতে যোগ দেন।
শহরের সাহিত্য একাডেমির সাথে যুক্ত থাকায় যোগাযোগ হয় র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সাথে। অল্পসময়ে র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সাথে তার সখ্যতা বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেন মোক্তাদিরের বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড।
র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদিরের চৌধুরীর কল্যাণে ২০০৬ সনে নির্বাচন অফিসে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন আশরাফ উদ্দিন ওরফে নূরুল আমিন। এরপর আর তাকে পিছনে তাকাতে হয়নি।



আশরাফ উদ্দিনের ছোট বোন সোনিয়ার শ্বশুরবাড়ি সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামে। সোনিয়া ২০১৮ সনে প্রাইমারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর আশীর্বাদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে সরাইল উপজেলায় প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
২০১৪ সনের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তখনই র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে আশরাফ উদ্দিন। তখন থেকেই ভোট ছাপানোর নীল নকশা তৈরি করার জন্য ছক আঁকে। অবৈধভাবে ভোট ছাপানোর জন্য অফিস থেকে মার্কিং সিল নিজ দায়িত্বে র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর এপিএস এইচএম মাহবুব, নেছার চৌধুরী, আবু মুছা আনছারী ও হামদু মিয়ার কাছে পৌঁছে দেন এই আশরাফ উদ্দিন (নূরুল আমিন)।
২০১৮ নির্বাচনে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, প্রয়াত নেছার চৌধুরী ও এইচএম মাহবুবের সাথে নীল নকশায় যুক্ত হন আশরাফ উদ্দিন । যখন রাতে ভোট ছাপানো হয় তখনও সে ছিল ভোট ছাপানোর মূখ্য ভূমিকায়। কোন কেন্দ্রে কাকে এজেন্ট, পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসার প্রেরণ করা হবে তাও ছিল আশরাফ উদ্দিনের নীল নকশার অংশ।
তবে ২০২৪ এর আমি আর ডামি নির্বাচনে এককভাবে দায়িত্ব নিয়ে ভোট ছাপানোর নীল নকশা পুরো পরিকল্পনার নেতৃত্ব দেন এই আশরাফ উদ্দিন (নূরুল আমিন)। শহরের কোন কর্মকর্তাকে কোন কেন্দ্রে দায়িত্ব দিলে ভোট ছাপানো সহজ হবে তার ছক তৈরি করেন আশরাফ উদ্দিন ওরফে নূরুল আমিন।
র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীকে নির্বাচন অফিসের গোপনীয় একসেস দেয়ার অপরাধে আশরাফ উদ্দিনকে বদলী করা হলেও এক মাস পরে পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলী হয়ে চলে আসে।
মোকতাদির চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করলে সেটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিভার্সিটি হোক, পার্টি অফিস হোক কিংবা চিনাইর শেকড় হোক সেখানে মোকতাদির চৌধুরীর সাথে অবস্থান করা ছিল আশরাফ উদ্দিনের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
এসব বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নির্বাচন অফিসের কর্তারা তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ অথবা নিষেধ করার সাহস করতেন না। যদিও তার বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অসংখ্য দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
অফিসিয়াল বদলি হলে তা পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাখার শর্তটিও মোকতাদির চৌধুরী অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আশরাফ উদ্দিন গত সপ্তাহে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বদলী হয়ে আসবেন।
তবে ৫ আগস্টের পর তাকে শাস্তিসূলভ নরসিংদী বদলী করা হলে ৩ মাসের মধ্যেই পুনরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া বদলী হয়ে চলে আসেন। বদলী হয়ে আসার ১ সপ্তাহের মধ্যে আবার তাকে জেলা নির্বাচন অফিস, ফেনী বদলী করা হয় কিন্তু সে আবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া তার পুরাতন কর্মস্থলে আসার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনে থাকা নির্বাচন কর্মকর্তা, মেড্ডা নিবাসী মেহের মিয়া (সফিক) এর ভুল তদবিরেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মিস গাইড করা হয়েছে।

