হযরত বেল্লাল
ঘন কুয়াশা ও কন কনে ঠান্ডা কমে যাওয়ায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বোর চারা রোপন শুরু হয়েছে। নির্বাচনের কারণে দেখা দিয়ে দিনমজুর সংকট। বিশেষ করে নিচু এলাকায় চলতি বোর মৌসুমে চারা রোপনের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু দিনমজুর না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে কৃষকরা। নিম্নবিত্ত শ্রেণির কৃষকরা পরিবার পরিজন নিয়ে চাষাবাদের কাজ করলেও উচ্চ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কৃষকরা দিনমজুর ছাড়া কাজ করতে পারছে না।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পনের ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় রোব চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৯২ হেক্টর। ইতিমধ্যে চারা রোপন শুরু হয়েছে হয়েছে।
উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের কৃষক বাবু মিয়া জানান, নির্বাচনের কারণে দিনমজুর পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় যাওয়ার কারণে দিন মজুর সংকট দেখা দিয়েছে। বোর চাষাবাদে হালচাষ, সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ও দিনমজুরের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদ করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন ৫০০ হতে ৬০০ টাকায়ও দিন মজুর পাওয়া যাচ্ছে না। দিনমজুররা এখন চুক্তিভিত্তিক কাজ করছে। তাতে করে এক বিঘা জমিতে চারা রোপনের জন্য দিতে হচ্ছে ৪ হতে ৫ হাজার টাকা। এতে করে দেখা গেছে, একবিঘা জমিতে চারা রোপন থেকে শুরু করে কাটামাড়াই পর্যন্ত খরচ ১২ হতে ১৩ হাজার টাকা। ধানের ফলন ভাল হলে বিঘাতে ধান হবে ১৮ হতে ২০ মন। যার বাজার দর ২২ হতে ২৩ হাজার টাকা।
ধুমাইটার গ্রামের মোনারুল ইসলাম বলেন, সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা করার জন্য নেতাকর্মীরা নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষদের দিনমজুরীর বিনিময়ে মাঠে নামিয়েছেন। সে কারণে বোর চাষাবাদে দিনমজুর পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন চলাকালিন সময় পর্যন্ত এ অবস্থা চলমান থাকবে।
সোনারায় ইউনিয়নের দিনমজুর অহেদ আলী জানান, প্রচন্ড ঠান্ডা তার উপর প্রতিটি জিনিসের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। দিন হাজিরা ভিত্তিক কাজ করে সংসার চালানো অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এখন অনেকে কৃষি কাজ করতে চায় না। সে কারনে দিন হাজিরা বেশি নিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল করিম জানান, চলতি বোর মৌসুমে লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আশা করা যাচ্ছে। যান্ত্রিক পদ্ধতি চাষাবাদ শুরু করা হলেও প্রশিক্ষণের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। কৃষি কাজ ছেড়ে এখন অনেকে অন্য পেশায় জড়িয়ে গেছে। সে কারণে দিনমজুরের একটু চাহিদা দেখা দিয়েছে।

