
ওমর ফারুক
নরসিংদীর মাধবদীতে চাঞ্চল্যকর আমেনা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মূলহোতাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
মামলাটি মাধবদী থানায় মামলা নং-২৫, তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৭/৯(৩)/৩০ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৬১/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত আমেনার মা ফাহিমা বেগম। তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জে হলেও বর্তমানে তিনি মাধবদীর কোতয়ালিয়ারচরে মতিন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
মামলায় যাদের নামে অভিযোগ আনা হয়েছে তারা হলেন কোতয়ালীরচরের মাদুর বাড়ির শাহজাহানের ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা; মাধবদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোতয়ালীরচরের সাদু খলিফার বাড়ির মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ; একই এলাকার মাদুর বাড়ির হান্নান মুন্সীর ছেলে হযরত আলী; একই এলাকার গাফফার; মৃত নাজির দেওয়ানের ছেলে আহম্মেদ আলী মেম্বার ওরফে আহমেদ দেওয়ান; বাঘের বাড়ির আহম্মদ দেওয়ানের ছেলে মো. এমরান; দেওয়ান বাড়ির মৃত শাহজাহানের ছেলে ইসহাক ওরফে ইছা; মাদুর বাড়ির দেওয়ান আলীর ছেলে আবু তাহের; এবং বিলপাড় এলাকার মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব আলী।
পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে নূর মোহাম্মদ ওরফে নুরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী, গাফফার, আহম্মেদ আলী মেম্বার ওরফে আহমেদ দেওয়ান, মো. এমরান এবং মো. আইয়ুব আলীকে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ওমর কাইয়ুম (নি.) জানান, অভিযুক্তরা আমেনাকে ফুসলিয়ে অপহরণ করে কোতোয়ালীরচর বাজারের পিছনে চৈতি টেক্সটাইলের পেছনে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এতে সরাসরি অংশ নেয় নুরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী ও গাফফার। পরবর্তীতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে অন্য সহযোগীরা সালিসির মাধ্যমে।
ঘটনার পর ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বড়ইতলা তিন রাস্তার মোড়ে আমেনা, তার মা ফাহিমা বেগম ও বাবা আশরাফ আলীর পথরোধ করা হয়। পরে আমেনাকে পুনরায় অপহরণ করে স্থানীয় জাকির হোসেনের সরিষা ক্ষেতে নিয়ে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ফেলে রাখা হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম

