ওমর ফারুক

স্টাফ রিপোর্টারঃ

জনগনের দোরগোড়ায় তাৎক্ষণিক সেবা দিতে অভিনব এক উদ্যোগ গ্রহন করে একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম গোলাম রসুল।
তিনি স্থানীয় জনগনের মন থেকে ভীতি কাটাতে ও চরাঞ্চলের মানুষকে পুলিশি সেবা দিতে এবার চরাঞ্চলের বালুর উপরে একটি প্লাস্টিকের চেয়ারে বসেই শুনলেন সেখানকার বসবাসরত মানুষের অভিযোগ।

খবরে প্রকাশ গত বুধবার (১৭ জানুয়ারী) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের চর ভোটমারী ও শৈলমারীর চর এলাকায় খোলা আকাশের নীচে বালুর উপরে চেয়ার টেবিল পেতে থানার কার্য সম্পাদন করেছেন । এসময় সঙ্গে থানার সাব-ইন্সপেক্টর সহিদুল ইসলাম ও সহঃ সাব-ইন্সপেক্টর সেলিমসহ সংগীয় পুলিশ ফোর্স। কাছে থেকে শুনছেন মানুষজনের কথা । সেখানে গিয়ে ওসিকে কেউ জানিয়েছেন ব্যক্তিগত অভিযোগ, কেউ বলছেন এলাকার নানা সমস্যার কথা। আবার অনেকে অপরাধমুক্ত এলাকা গড়তে দিচ্ছেন নানা প্রস্তাব। ওসি নিজেই সেসব অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। ওসির এই উদ্যোগ পুলিশকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখবে বলে সুশীল সমাজ মনে করছেন। ওসির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষজন।

টাকার অভাবে, নদী পেরিয়ে ভয়ে অনেকে নানা সমস্যায় থানা পর্যন্ত যেতে পারেন না চরাঞ্চলের মানুষ। অনেকে দুষ্কৃতীকারিদের হুমকি উপেক্ষা করে থানায় যেতে ভয়ও পান। কালীগঞ্জ থানার ওসি হিসাবে কাজ করতে গিয়ে এমন নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে এটিএম গোলাম রসুলের। তিনি পরিকল্পনা করেন, সপ্তাহে এক দিন থানা বসবে প্রত্যন্ত গ্রামে বা চরাঞ্চলে। তারই সূচনা করতে একটি প্রাস্টিকের চেয়ার ও ছোট্ট একটি টেবিলসহ পানি ও বালু পার হয়ে চরাঞ্চলে যান ওসি। চরাঞ্চলের বালুর উপরেই শুরু হয় থানার কাজকর্ম।

চরাঞ্চলের বাসিন্দা আমিনুর রহমান জানান,
ওসি মহোদয়ের এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর আগে কখনও এমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি। পুলিশের এ ধরনের ব্যাতিক্রমি কার্যক্রম সব সময় অব্যাহত থাকুক। তাহলে থানায় সাধারণ মানুষ তাদের সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। এজন্য কালীগঞ্জ থানা এলাকায় প্রশংশায় ভাসছেন ওসি এটিএম গোলাম রসুল।

হঠাৎ এমন উদ্যেগের বিষয় জানতে চাইলে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম গোলাম রসুল বলেন, ওসির রুমে ঢুকতে সাধারণ মানুষ ভয় পায়। এজন্য অনেকে দালাল শ্রেণির লোক নিয়ে থানায় আসেন। জনগণের সেই পুলিশভীতি কাটাতে নিজ কক্ষ ছেড়ে চরাঞ্চলে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে এ কার্যক্রম শুরু করেছি। এখন থানায় যেকোনো মানুষ ভয়ভীতি ছাড়াই আমার কাছে এসে তাদের সমস্যার কথা বলতে পারবে। আমি প্রমাণ করতে চাই পুলিশ জনগণের বন্ধু।পুলিশের কাজ হচ্ছে জনগনের সেবা করা, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মানুষের সমস্যা আর সমাধানের পথ বের করে একটি সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা চালু করতে চাই। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নেই এই কার্যক্রম চলবে। এতে এলাকার বিভিন্ন অপরাধ শুন্যর কোঠায় নেমে আসবে।