সম্পাদক

স্টাফ রিপোর্টার:

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) শুরু হয়েছে। প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও দেশ-বিদেশের কয়েক লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। ইজতেমার মুসল্লিদের সঙ্গে জুমার নামাজে অংশ নিতে ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা আসেন ময়দানে। দ্বিতীয় পর্বে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে। দ্বিতীয় পর্বে জুমার নামাজ পরিচালনা করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভিড় বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী।তবে বিশ্ব ইজতেমা-২০২৩ এর প্রথম পর্বের মতো মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দ্বিতীয় পর্বের জুমার নামাজে দেখা যায়নি।


শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) ইজতেমার ময়দানে ও ময়দানের বাহিরের সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, একদমই স্বাভাবিক। জুমার নামাজের আগে থেকে আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী এলাকায় যানবাহনের চাপ নেই। মুসল্লিরা পায়ে হেটে ময়দানে জুমার নামাজ আদায় করতে আসেন। তারা সরাসরি ময়দানের ভেতরে গিয়ে জুমার নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। ভেতরে ময়দানও ছিলো অনেকটা খালি৷ যে কারণে দ্বিতীয় পর্বে ইজতেমার ময়দানের বাইরের সড়কে নামাজ আদায়ে মুসল্লিদের কোনো ভিড় দেখা যায়নি। তবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে জুমার নামাজে মুসল্লিদের ভিড়ে ময়দান ছিলো কানায় কানায় পরিপূর্ণ। ময়দানের প্রবেশের পথগুলোও পরিপূর্ণ ছিলো। এরপর মুসল্লিদের ভিড়ে আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী স্টেশন রোড, মিলগেট ও টঙ্গী ফ্লাইওভারও ছিলো মুসল্লিতে ভরা। যা দ্বিতীয় পর্বে দেখা যায়নি। জুমার নামাজ আদায় করতে আগত মুসল্লিরা বলেন, গত সপ্তাহের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে জুমার নামাজ আদায় করতে এসেছিলাম। কিন্তু ময়দানের ভেতরে যেতে পারিনি। অনেক ভিড় ছিলো। এক পর্যায় ময়দানের বাইরে প্রধান সড়কে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল। আজও জুমার নামাজ আদায় করতে ময়দানে এসেছি। এবার ময়দানের ভেতরে গিয়ে নামাজ আদায় করেছি৷ প্রথম পর্বের তুলনায় দ্বিতীয় পর্বে মুসল্লিদের পরিমাণ কম হয়েছে।


বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে নিয়োজিত মুরব্বিরা জানিয়েছেন,দ্বিতীয় পর্বে ময়দানে উপস্থিত রয়েছেন মাওলানা সাদ এর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী, মেঝো ছেলে মাওলানা সাঈদ বিন সাদ কান্ধলভী ও ছোট ছেলে মাওলানা ইলিয়াস বিন সাদ কান্ধলভী। এছাড়াও তাদের সঙ্গে মাওলানা সাদের জামাতা মাওলানা হাসানসহ সাতজনের একটি জামাত ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন।


বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই মিলে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ করেছি। দ্বিতীয় পর্ব আরও ভালোভাবে শেষ করতে চাই। প্রথম পর্বের চেয়ে আরও বেশি সতর্ক অবস্থায় আছি আমরা।
তিনি বলেন, প্রথম পর্বের সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় পর্বে আরও বেশি নিরাপত্তা কীভাবে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।


ইজতেমার ময়দানে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে জিএমপি কমিশনার বলেন, পোশাকে, সাদা পোশাকে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, স্পেশাল ইউনিট, র্যাব, কুইক রেসপন্স টিম, সিসিটিভি মনিটরিং, সবকিছু মিলিয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হবে না। পুরো মাঠ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ, বিশ্ব ইজতেমা-২০২৩ এর প্রথম পর্ব ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিযে শেষ হয়। প্রথম পর্বে মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন৷
এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) বাদ আসর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আগামী রোববার (২২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব। ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে মাওলানা সাদ অনুসারীরা অংশ নিয়েছেন।