
আবদুর রহমান
আজ ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া ও প্রার্থনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্মৃতিচারণমূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন একপর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং গণতন্ত্র, সুশাসন ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে নতুন জাতীয় প্রত্যাশার জন্ম দেয়।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনকে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দপ্তর ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সব স্তরের মাদ্রাসায়ও অনুরূপ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
দিবসটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কর্মসূচির স্থানগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়েই এবার পালিত হচ্ছে দিবসটি।

