মোঃ আশিকুর রহমান
আজমিরীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কার্তিকের মাঝামাঝি সময়ে এসে গত ৩১(অক্টোবর) বিকাল ৫টায় হঠাৎ নেমে আসা এক ফশলা বৃষ্টি যেন কৃষকের মঙ্গল কামনা হয়ে এসেছে।রোপা আমন ধানের শীষ বের হওয়া ও ধান পুষ্ট হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বৃষ্টিকে স্বাভাবিক বৃষ্টির চেয়ে অনেক বেশি কিছু মনে করছেন কৃষকরা। তাঁদের ভাষায়, যেন ‘আকাশ থেকে সোনা ঝরে পড়েছে’। পানির অভাবে যেসব জমিতে খরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, সেখানে এই বৃষ্টি স্বস্তি এনে দিয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া রোপা আমনের ক্ষেত বাতাসে দোল খাচ্ছে। কোথাও ধানের শীষ বের হচ্ছে, কোথাও শীষ বের হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আবার কিছু জমিতে ধানের শীষে দুধ আসার উপযুক্ত সময় চলছে। ধানের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে জমিতে সেচের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টিতে সেচের বাড়তি খরচ থেকে অনেকটাই রেহাই পেয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের কৃষক

ডালিম মিয়া আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “এটা বৃষ্টি নয়, আল্লাহর রহমত। কৃষকদের জন্য সোনা।” অতিরিক্ত খরা ও পোকামাকড়ের উপদ্রব নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এই বৃষ্টিতে সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে। কার্তিকের এই বৃষ্টিতে ধানের পাতায় জমে থাকা ধুলাবালি পরিষ্কার হয়েছে। কৃষকদের আশা, বৃষ্টির ফলে ধানের বৃদ্ধি ও শীষ পুষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। বিশেষ করে ধানে দুধ আসার সময় পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। তাই এ সময়ে বৃষ্টিকে আমন চাষের জন্য বেশ উপকারী বলে মনে করছেন তাঁরা। কৃষক সনজিত গোপ বলেন, কার্তিকের বৃষ্টি মূলত আমন চাষিদের জন্য প্রকৃতির এক বিরাট দান। মাঠজুড়ে সবুজের ঢেউ আর কৃষকের চোখে-মুখে সোনালি ফসলের স্বপ্নড়সব মিলিয়ে কার্তিকের এই বৃষ্টি গ্রামীণ জনপদে ছড়িয়ে দিয়েছে নতুন আশার আলো।