
মোঃ হাছনাইন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মানবতার মুক্তির দূত হিসেবে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। তিনি যে আদর্শ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন, সে আদর্শ মেনে নেয়ার কারণে আইয়ামে জাহেলিয়াতের অভিশাপ থেকে সৃষ্টিকূল মুক্তি পেয়েছিল।
রাসূল সা. এর আদর্শ থেকে মানবজাতি নিজেদের সরিয়ে নেয়ার কারণেই বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে অশান্তির বিরাজ করছে। দেশের অভ্যন্তরে চলছে গুম, খুন, চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতির রাজত্ব।স্বাধীনতা উত্তর যে আদর্শ বা নীতি দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে, তাতে জনগণ মুক্তি পায়নি এবং পাবেও না। সেজন্য আদর্শ বা নীতির পরিবর্তন জরুরি। সেই আদর্শই হচ্ছে সীরাতে রাসূল সা.।মোটকথা, রাসূল সা. আনীত আদর্শ বা সীরাতের বাস্তবায়ন ছাড়া রাষ্ট্রে শান্তি আসবে না, আসতে পারে না
০৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত “জাতীয় সীরাত সম্মেলন ‘২০২৬”-এ তিনি এসব মন্তব্য করেন।
পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী আইন তথা শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার কথা বলে আসছে।আমরা মনেপ্রাণে দৃঢ় বিশ্বাস করি শরীয়াহ প্রতিষ্ঠাই পারে মানবজাতিকে মুক্তি দিতে।সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জ্বলন্ত উদাহরণ সীরাত। যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি সৃষ্টি পরিচালনার আইন দিয়েছেন। সেই আইন নিহিত আছে রাসূল সা. এর সীরাতে। মানবজাতির মুক্তির জন্য আমৃত্যু সীরাত বাস্তবায়নে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সভাপতির বক্তব্যে নগর সভাপতি শেখ ফজলুল করীম বলেন, ব্যক্তিজীবনে আমরা অনেকেই রাসূল সা. এর সীরাত মেনে চলি।এতে ব্যক্তিজীবনে সুশৃঙ্খলতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।কিন্তু সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিকভাবে সীরাতের চর্চায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা উদাসীন।সীরাত আমাদের শেখায় শাসকরা শাসনের নামে শোষণ করবে না বরং তারা হবে খাদেম। আমরা সেই সচেতনতা তৈরি করতেই প্রতিবছর সীরাত সম্মেলনের আয়োজন করি।
সীরাত সম্মেলনে সীরাত গবেষক ও লেখক এনামুল করীম ইমাম কে সংবর্ধনা দেয়া হয়।মাসব্যাপী সীরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
নগর সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় জাতীয় সীরাত সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ডক্টর আ.ফ.ম খালিদ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ, সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম,দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আ.ই.খ. ম ইউনুস, ট্যুরিসম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, সীরাত গবেষক ও লেখক ডা. আবিদ হোসেন,নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন, আলহাজ্ব আবদুর রাজ্জাক, এম এইচ মোস্তফা, ফজলুল হক মৃধা প্রমুখ।

