সম্পাদক
স্টাফ রিপোর্টার:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলাধীন নান্দাইল পৌর সভার ৮নং ওয়ার্ডের চাষী বাদল চন্দ্ৰ বৰ্মন শীতকালীন সবজি হিসাবে বাহারি রঙের ফুলকপি চাষ শুরু করেছে। এর মাঝেই রং-বেরঙের বাহারি ফুলকপি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে উৎসুক জনতা ভিড় করছে।
রঙ্গিন ফুলকপি দেখতে কোন অংশেই ফুলের চেয়ে কম সুন্দর নয়। রঙ্গিন ফুলকপি গুলোর আকৃতি সাদা ফুলকপির মতো হলেও কমলা/বেগুনি রং যেন অনেকটাই আকর্ষণীয় করে তুলেছে রঙিন ফুলকপি গুলোকে । রঙ্গিন ফুলকপি বিভিন্ন রঙ্গের হয়ে থাকে যার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো কমলা ও বেগুনি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০২১ সালে “রঙ্গিন” ফুলকপির চাষ শুরু হয়।
নান্দাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবীড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় পৌরসভা ব্লকে প্রথমবারের মত রঙিন ফুলকপি চাষ হচ্ছে।
নান্দাইল পৌরসভা ব্লকের কৃষক বাদল চন্দ্র বর্মণ নিজের ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় দুই হাজার রঙ্গিন ফুলকপির চারা রোপন করেছে।কৃষি অফিসের বিভিন্ন উৎপাদন ও পরিচর্যা বিষয়ক পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে বর্তমানে কৃষক বাদল চন্দ্র বর্মনের জমিতে রঙ্গিন ফুলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। ২০ শতাংশ জমিতে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানয় বাদল চন্দ্র বর্মণ।
কৃষক বাদল চন্দ্র বর্মণ দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার প্রতিনিধিকে বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে আমি প্রথমবার রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। খরচের তুলনায় তিন-চার গুন লাভ হবে বলে আমি মনে করছি।
পৌরসভার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার মাহমুদুল হাসান (সুমন) জানায়, রঙ্গিন সবজিতে অন্যান্য রঙ্গের সবজির তুলনায় পঁচিশ গুন বেশি ভিটামিন “এ” উপাদান থাকে। আবার অন্যতম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অ্যান্থোসায়ানিনের উপস্থিতির কারণে ফুলকপির রং বেগুনি হয়।বাদল চন্দ্র বর্মণকে আমরা প্রায় দুই হাজার রঙ্গিন ফুলকপির চারা প্রদান করেছি, আবাদ করার জন্য।
আমরা সবসময় কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি। রঙ্গিন ফুলকপির ফলন ভালো হয়েছে। আমরা আশাবাদী কৃষক লাভবান হবে।
নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান বলেন, চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে এই বাহারি রঙের ফুলকপির বীজ। তাছাড়া বাহারি রঙের ফুলকপি গুলো ক্যারোটিন সমৃদ্দ এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক। সমসাময়িক সবজি গুলোর পাশাপাশি এই বাহারি রঙের সবজি, কৃষক চাষ করলে অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবে বলে আমি মনে করি।

