সম্পাদক
ফিরোজ আলম, রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষীপুর রামগতি পৌরসভা আলেকজান্ডার বাজারে দুই কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। সরকারী ওই জমির মূল্য আনুমানিক ২ কোটি টাকা। মঙ্গলবার দুপুরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা আলেকজান্ডার বাজারের উপর টলঘর দীর্ঘ কয়েক বছর যাবত পরিত্যক্তভাবে পড়ে আছে। হঠাৎ একশ্রেণির দখলদাররা ওই জমিতে দোকান করে কাঁচা মাল বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারের ব্যবসায়ী শাহজাহান, সিরাজ ও জমির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারের প্রধান সড়কে দিন দুপুরে সরকারি প্রায় পাঁচ শতক জমি প্রকাশ্যে দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেন। এমন অবৈধ দখল বিষয়ে প্রশাসনের কোন ভূমিকা চোখে পড়েনি।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় হান্নান, মো. নোমান, মো. বেলাল. মো. মিরাজ ওলী সহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক দোকানে বসে কাঁচা তরকারি বিক্রি করেন। এদের একজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, অনেক কষ্ট করে একটা পজিশন নিয়েছি। কোন অর্থের বিনিময়ে দোকান পজিশন নেয়া হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। সরকারী জায়গায় দোকান করা অন্যান্যদের কাছে জানতে চাইলে অনেকে চুপ থাকেন ।
টলঘরে কাঁচাতরকারি ক্রয়করতে আসা নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়ার পর সরকারি জায়গাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। হঠাৎ এখানে রাতারাতি ২০ থেকে ২৫ টি দোকান উঠেছে মেয়রের লোকজনের ইশারায়। তাদের দাবি মেয়র ও প্রশাসনের যোগশাজসে অবৈধ মার্কেট গড়ে উঠেছে।
আলেকজান্ডার পৌরভূমি অফিস সহকারী কর্মকর্তা মো. দিদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমজাদ হোসেন জানান, সরকারি খাস জায়গা দখল করে বেশ কয়েকটি দোকান উঠেছে। এব্যাপারে আমি বক্তব্য দেওয়ার কেউ না বলে এড়িয়ে যান তিনি।
রামগতি পৌরসভা মেয়র ও জেলা আ.লীগের তথ্য-গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এম মেজবাহ উদ্দিনের সাথে সরকারি জায়গা দখলে আপনার লোক সম্পৃক্ত রয়েছে ; এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পরে কথা বলবো বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম. শান্তুনু চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহান জানান, এবিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। দ্রুত খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।

