নিউজ ডেস্ক
বানোয়াট-মিথ্যা, সাজানো-বিভ্রান্তিমূলক, হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ করেছেন এলাকাবাসী।

নরসিংদীর শিবপুরস্থ দক্ষিণ কামালপুর এলাকাবাসী সেখানকার সিরাজুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার মোতাওয়াল্লি আনোয়ার হোসেন সিরাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে তার মুখোশ উন্মোচন করেছেন।
নারায়নগঞ্জের ভুইঘরের মৃত হাজী সিরাজুল ইসলাম এর ছেলে আনোয়ার হোসেন একসময় ছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ এর কর্মচারী।পরবর্তীতে নিজের নানুর বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরস্থ দক্ষিণ কামালপুরে বসবাস শুরু করেন। দেখতে সুন্দর ও ফিটনেস বডির অধিকারী। জীবনে কয়টি বিয়ে করেছেন হয়তো নিজেও বলতে পারবেন না। তবে একজন স্ত্রীর কথায় প্রমাণিত হয় তিনি ৭ টি বিয়ে করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মাওলানা ইব্রাহিম হাসান দাবী করেন, আনোয়ার হোসেন সিরাজি একজন স্বৈরাচারের দোসর; সে এই এলাকায় নৈরাজ্য ও ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে বাহির এলাকা হতে আওয়ামী সন্ত্রাস এনে এলাকায় নিরীহ মানুষের উপর অত্যাচার করতো। ভয়ে মানুষ কথা বলতো না; নিরবে নিভৃতে মানুষ সহ্য করতো।
এলাকার মানুষের অনুদানের টাকায় নির্মিত মসজিদ এবং মাদ্রাসাকে নিজের প্রতিষ্ঠান বলে দাবী করে নানান জায়গা হতে অনুদান এনে ভোগ করতো সে।
এভাবে অর্ধকোটি টাকার মতো সে আত্মসাৎ করে। এছাড়াও সে এই বৃদ্ধ বয়সে কাজের মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে গর্ভে সন্তান দিয়ে এলাকাবাসীর চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হয়। কিছুদিন পরেই আবার কাজের মেয়ের চাচাতো বোনের সাথে পরকীয়া জড়িয়ে তাকেও বিয়ে করার খবর পাওয়া যায়। আওয়ামী আমলে ক্ষমতা দেখিয়ে তার ঘরের সামনে দেয়াল তৈরি করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে দীর্ঘদিন।
মহল্লার মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন,’ আনোয়ার হোসেন সিরাজি একজন স্বৈরাচারের দোসর হওয়া সত্ত্বেও আমরা মাদরাসা-মসজিদের জন্য সব কিছু মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু দিন দিন ওনি বেপরোয়া হয়ে উঠেন।
গত কয়েকদিন আগের ওনারই স্ত্রী (সাবেক কাজের মেয়ে) তার মাসহ পুরো এলাকায় ঘুরে ঘুরে সবার কাছে মেয়ের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এর সুরাহা চায়; সেই সূত্রে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে মিমাংসা করতে। কিন্তু পরে ঐ মেয়েই তার স্বামীর সাথে মিলে এলাকাবাসীর নামে মামলা দায়ের করে নরসিংদী কোর্টে। আবার সেই সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যা-বানোয়াট এবং বিভ্রান্তকর সংবাদ প্রকাশ করে এলাকার সম্মানহানি করেছে।
মসজিদের সাথে লাগোয়া এতিমখানার দিতল ভবন! এটি ওয়াকফ হওয়ার কথা থাকলেও এলাকাবাসীকে কোমায় রেখে নিজের নামে জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন। বারবার বলা সত্বেও এটা ফিরিয়ে দিতে নারাজ তিনি।
মাদরাসার জমি দাতা হোসেন মিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি এটা আল্লাহর রাস্তায় দিয়েছি। কিন্তু কিভাবে কি হলো আমি কিছু জানিনা! গত কিছুদিন পূর্বে আমিসহ আমার পরিবারকে সে শারীরিক নির্যাতন করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এখন আমি অসহায়।
এলাকার তরুণদের দাবী হলো, সে লেবাস ধরেছে! সে নারী লোভী-অনেকগুলো বিয়ে করেছে। মাদরাসার জমি দখল করে দিতলে বউ নিয়ে থাকে তার আলাদা ঘর থাকার পরও। সে মাদরাসার নামে অনুদান গ্রহণ করে ভোগ করছে।
মাদরাসার শিক্ষকদের সাথে বাজে ব্যবহার করে এবং তাদের বেতন-ভাতা না দিয়ে বিদায় করে দিত; যাওয়ার সময় প্রতিটা শিক্ষক কান্নাকাটি করে বিদান নিতো। এছাড়াও এলাকাবাসীকে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন এলাকার সাধারণ জনগণ; সুশীল সমাজ এবং মুরুব্বিগণ। এলাকাবাসী তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।

