মোঃ তারেক মিয়া
শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা এক বিশাল নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত নৌকা বাইচের আয়োজন করেন দিরাই-শাল্লা সুনামগঞ্জ ২ সংসদ পদপ্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এই আয়োজনে আশেপাশে ছয়টি উপজেলার নারী পুরুষ সহ প্রায় লক্ষাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

শাল্লার মরা সুরমা নদীতে শুক্রবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টা অনুষ্ঠিত হয়। এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় স্থানীয়রা সামাজিক ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন ও এলাকার মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বেড়ে যাওয়ার দিকটি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। নারী-পুরুষ, বয়োজ্যেষ্ঠ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরসহ আত্মীয়স্বজনসহ বিশাল জনসমাগমে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করেছিল।

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে যুব সমাজকে মাদকাসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা। এই ধরনের আয়োজন যুবকদের নেশাগ্রস্ত হওয়ার সময়ই কমিয়ে আনবে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যেই আয়োজক কমিটিকে এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিশির মনির জানান, “এই বছর ছায়ার হাওর এবং দিরাইয়ের কালনী নদীতেও নৌকা বাইচের আয়োজন করা হবে। আমরা চাই আমাদের সমাজে হানাহানি ও মারামারি না হোক, বরং এটি ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সমাজ হিসেবে গড়ে উঠুক। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন ভিত্তিক লাঠি খেলা এবং হাডুডু প্রতিযোগিতাও আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মধ্যে মতের পার্থক্য থাকলেও হানাহানি নয়, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হবে। এজন্যই এই আয়োজন করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সবাই উপভোগ করবেন এবং এর ছড়িয়ে পড়বে।”

তরুণ প্রজন্মের প্রতি শিশির মনিরের বার্তা ছিল, “এ যুগের তরুণরা পুরনো স্টাইল পছন্দ করে না, তারা নতুনত্ব চান। নতুন ধারায় তরুণদের বদলানো প্রয়োজন। তরুণরা মারপিট বা হানাহানি পছন্দ করে না, তারা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উল্টো কথাবার্তা শুনতে চায় না। এতে সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে।”

গাজীপুরে এক সাংবাদিককে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, “দেশে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলো সাংবাদিকতা। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র পূর্ণতা পাবে না। গাজীপুরে যে ঘটনা ঘটেছে, তা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমি ঢাকায় গিয়ে ভিকটিমের খোঁজখবর নেব এবং সম্ভব সহায়তা করবো।

নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে আসা মনুয়া গ্রামের এক তরুণ বলেন, “হঠাৎ এমন ঝাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও উত্তেজিত। শিশির মনিরের উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই, যেটি আমাদের এলাকায় পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে। লক্ষাধিক মানুষ নারী-পুরুষ মিলে আনন্দের সঙ্গে বিনোদন উপভোগ করছেন। আশা করি প্রতিবছরই এরকম আয়োজন হবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১নং আটগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আন নোমান, ৩নং বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু, ৪নং শাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সাত্তার, শাল্লা উপজেলা জামায়াত ইসলামের আমীর মাওলানা নূরে আলম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, দিরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আব্দুল কদ্দুস সেক্রেটারি মোঃ আল আমীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।