মোঃ কামাল হোসেন
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গা জেলা জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়ার পোকামারী পাড়ায় ও পাঁকা বিলের মাঠে পুকুর খনন ও পুকুর সংস্কারের নামে দরদম চলছে ইটভাটায় মাটি বিক্রির মহোৎসব। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন ও রাতে মাটি ভর্তি ট্রাক্টরের শব্দ দুষনে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মাটি ভর্তি ট্রাক্টর অনবরত যাতাযাত করায় পাড়ার গ্রামীন সড়ক ভেঙ্গেচুরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তায় বেপরোয়া গতির ট্রাক্টর দাপিয়ে বেড়ানোর কারণে পথচারী ও শিশুদের রাস্তায় অবাধ চলাচল জীবনের প্রতি হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

মাটিভর্তি ট্রাক্টরের শব্দ দুষণে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে। অতিষ্ঠ গ্রামবাসী বাঁধা দিলে ভূমিদসুরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাটি কাটা হচ্ছে বলে দাবী করে হুমকি দেয়া হয়েছে। যন্ত্রতন্ত্র মাটি কাটার ফলে পরিবেশ ও ভারসাম্য রক্ষায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে পোকামারী পাড়ার মোড়ে পুলিশ চেক পোষ্টে সামনে দিয়ে সারা রাত ধরে চলছে এ মাটি ভর্তি ট্রাক্টরগুলো। পুলিশ দেখেও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাসপাড়া গ্রামের মৃত হামিদ মন্ডলের ছেলে হারুনার রশিদ আন্দুলবাড়িয়া পোকামারী পাড়ায় পুকুর খনন কাজ শুরু করেছেন। এছাড়াও পাঁকা গ্রামের ময়েজদ্দিন তার বিল মাঠে ফসলি জমি থেকে একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ভূমিদস্যু সাইফুল ইসলাম মাটি কাটছেন।

ভূমিদস্যু হারুন ও সাইফুল এলাকায় মাটি বিক্রির সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে আসছেন। দিন ও রাতের বেলায় মাটি কাটায় মাটি ভর্তি ট্রাক্টর গুলো বেপরোয়া গতিতে যাতায়াত করায় পথচারী ও শিশুদের রাস্তায় অবাধ চলাচল জীবন প্রতি হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এ ছাড়াও মহল্লাবাসীর রাতে ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে। বৃদ্ধ ও রোগীরা শব্দ দুষণে অস্থির হয়ে পড়ায় পাড়ার লোকজন নিষেধ করলে তাদের হুমকি দেয়া হয়েছে।

পোকামারী পাড়ার মৃত খলিল ব্যাপারীর ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, মাটি ভর্তি ট্রাক্টর দিন ও রাতের বেলায় বেপরোয়া গতিতে দাপিয়ে বেড়নোর কারণে মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে, সুস্থ মানুষ ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। আমরা নিষেধ করলে মাটি দস্যুরা জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। যেখানে পাবো, সেখানে তোকে মারবো।

কৃষক শুকুর আলী ও সিরাজুল ইসলাম অভিন্ন ভাষায় বলেন, আমরা এই সড়ক দিয়ে মাঠঘাট থেকে ফসলাদি নিয়ে আসি। একমাত্র গ্রামীণ সড়ক ভাঙ্গন সুষ্টি হওয়ায় আমরা প্রতিবাদ করলে তারা বলছে আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মাটি কাটছি, প্রয়োজনে রাস্তা বেঁধে দেব। ট্রাক্টরের শব্দ দূষণের কারণে আমরা ঘুমাইতে পারি না। দিন বেলায়ও যেমন কাটে, রাতও তেমন কাটে। গ্রামবাসী অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নিবার্হী কমকর্তা আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, মাটি দস্যুদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলছে, মাটি কেটে বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।