
ওমর ফারুক
‘রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি বন্ধ করো, চাই সুস্থ ধারার রাজনীতি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নরসিংদীতে অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক ও সাজেদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মোহসীন হোসাইন বিদ্যুৎ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান সরকার হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মুনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পক্ষ থেকে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে নরসিংদীতে এসেছেন।
সাংগঠনিক সপ্তাহ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়, দেখা-সাক্ষাৎ এবং সাংগঠনিক আলোচনা করতেই তাদের এ সফর।
তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি কঠিন সময় পার করেছেন।
৫ আগস্টের পূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করা নেতাকর্মীরা আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে, ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং তারেক রহমানের আহ্বানে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যে নেতাকর্মীরা একসময় একে অপরের দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন, একজনের খাবার সবাই মিলে ভাগ করে খেয়েছেন এবং সব ধরনের হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করেছেন, আজ তাদের মধ্যেই বিভেদ, প্রতিযোগিতা ও পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি কল্যাণমুখী ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র বিনির্মাণে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষি কার্ড, অসহায় মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এ অবস্থায় জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মীদের দায়িত্ব হলো সরকারের হাতকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করা।
দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল বা অর্থ উপার্জনের মানসিকতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে নেতাকর্মীদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করতে হবে। কোনোভাবেই সুবিধাবাদী বা দলের দুঃসময়ের বিরোধীদের সামনে আনা যাবে না। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নের সাংগঠনিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং তৃণমূল থেকে সৎ, যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি নেতাকর্মীদের অতীতের নির্যাতন-নিপীড়নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক অবস্থানকে সুসংহত করতে হবে।
কোনো ধরনের অপপ্রচার, রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি কিংবা অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে এবং সুস্থ, শালীন ও গণমুখী রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

