আলামিন হোসেন
রাজনীতি তার কাছে কখনোই ক্ষমতা কিংবা পদ-পদবী অর্জনের সিঁড়ি ছিল না; বরং ছিল আদর্শ, নৈতিকতা ও বিবেকের কাছে করা এক আজীবনের অঙ্গীকার। সেই বিশ্বাসকে ধারণ করেই দীর্ঘদিনল রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মে: শফি বিশ্বাস।
সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলা জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শফি বিশ্বাসের নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা যায় গ্রামীণ সাধারণ জীবন যাপন করতে।কৃষিকাজ থেকে শুরু করে নিজ হাতে পরিচর্যা করছেন গরুর খামার।নিজেই খামারের গাভির দুধ দোহন করছেন এমন দেখা যায় ভিডিওতে।ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির ত্যাগী নেতাদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে বিষয়টি।এবিষয়ে তিনি বলেন, আদর্শের প্রশ্নে আপস না করায় বারবার হামলার শিকার হতে হয়েছে, কারাবরণ করতে হয়েছে একাধিকবার।ফ্যাসিবাদ সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীদ্বারা আহত হতে হয়েছে অনেক বার।সেই ক্ষতচিহ্ন আজও তার শরীরে বহন করছেন। তার ভাষায়, প্রতিটি ক্ষতই তাকে মনে করিয়ে দেয় আদর্শের পথে চলার মূল্য কখনো সহজ নয়।
তিনি আরো বলেন, ব্যক্তিগত লাভ, পদ-পদবী কিংবা করতালির আশায় রাজনীতিতে আসেননি। বরং অন্যায়, দমন-পীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়ানোকে নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব ও নৈতিক কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখাই ছিল তার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শফি বিশ্বাস বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে যারা সম্মুখসারিতে থেকে ত্যাগ স্বীকার করেন, সুসময়ে তাদের অনেকের অবদানই যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। তবুও এই বাস্তবতা তাকে কখনো হতাশ বা আদর্শচ্যুত করতে পারেনি। তার বিশ্বাস, সাময়িক বঞ্চনা একজন আদর্শবান কর্মীর পথচলাকে থামিয়ে দিতে পারে না।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নেতৃত্বের ওপর তার বিশ্বাস অটুট। তিনি মনে করেন, সত্যকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য চাপা দেওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা যায় না। ত্যাগের মূল্যায়ন বিলম্বিত হতে পারে, তবে প্রকৃত ত্যাগীদের অবদান একদিন অবশ্যই স্বীকৃতি পায়।
তিনি আরও বলেন, রক্ত, ত্যাগ ও অশ্রু দিয়ে যে আদর্শের পথ নির্মিত হয়েছে, সেই পথ থেকেই তিনি কখনো সরে দাঁড়াবেন না। ভবিষ্যতেও দেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং দলের আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন শুধু নৈতিক দায়িত্বই নয়, সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য ধরে রাখারও অন্যতম পূর্বশর্ত। আন্দোলন-সংগ্রামে আত্মত্যাগী কর্মীদের সম্মান ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে তা দলের প্রতি নতুন প্রজন্মের আস্থা ও অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হতে পারে।
জেলা নেতাদের মতে, শফি বিশ্বাসের মতো ত্যাগী নেতাদের অনেকেই এখন ভালো নেই। কারণ ৫ আগস্টের পর বিএনপিতে নতুন করে সুবিধাবাদী আর হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের উত্থান হয়েছে। বিগত কোনো আন্দোলনে বা দলের কোনো পদে না থাকলেও অনেকেই এখন বিএনপি সেজেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তারাই এখন সব জায়গায় হর্তাকর্তা হয়ে বসেছেন। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপকর্মেও। তাদের কারণে ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপির দেখা পাওয়া কিংবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার শীর্ষ নেতারাও আগের মতো আর খোঁজ নেন না।
রাজনীতিতে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে আদর্শকে বড় করে দেখার যে বার্তা শফি বিশ্বাস তুলে ধরেছেন, সেটি ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আদর্শনির্ভর রাজনৈতিক চর্চার প্রশ্নে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

