
আবদুর রহমান
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা সবার জন্য সহজলভ্য করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘Let’s Break It Down’ (চলুন সহজভাবে বুঝি) হেপাটাইটিস সম্পর্কে সামাজিক ভীতি ও ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাকে জনগণের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হেপাটাইটিস বি ও সি-এর কারণে প্রতিবছর বিশ্বের লাখো মানুষ লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। তবে সময়মতো টিকাদান, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা, পরীক্ষা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এ কারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবাপ্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে আসে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ই-হেলথ কার্ড এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা রোগ শনাক্তকরণ, ধারাবাহিক চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তা প্রদানকে আরও কার্যকর করবে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’—এই নীতিকে সামনে রেখে সরকার জনগণের দোরগোড়ায় আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংগঠন, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ ধরনের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি হেপাটাইটিসমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

