
আবদুর রহমান
সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক অভিযানে জব্দকৃত প্রায় ৮৩ কোটি ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৫ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সাতক্ষীরার নীলডুমুর ও কুমিল্লায় পৃথক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
সাতক্ষীরার নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম যশোর রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১১ জুলাই পর্যন্ত শ্যামনগর, দেবহাটা ও কালীগঞ্জ সীমান্তে বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা ৫১ কোটি ৮৫ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্যের মধ্যে ৩১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে ছিল ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন, আইস (ক্রিস্টাল মেথ), এলএসডি, গাঁজা, মদ, অবৈধ ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে একই দিনে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) ও সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য ধ্বংস করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, গত তিন বছরে কুমিল্লা, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মালিকবিহীন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে তিনি সীমান্তে মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগও প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে জব্দ করা বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, অবৈধ ওষুধ, ইনজেকশন, সিগারেট ও জর্দা ধ্বংস করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

