হযরত বেল্লাল
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

আমন ধানের চারা রোপণের প্রস্তুতিতে জমিতে পাওয়ার টিলার দিয়ে হাল চাষ শুরু হয়েছে। আর সেই হাল চাষের জমিতেই মাছ ধরার অভিনব কৌশল এখন নজর কেড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের মানুষের। পাওয়ার টিলার ও কাঁকড়ার চাষে জমির কাদা-পানিতে উঠে আসা দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু ও বয়স্করাও ছুটে যাচ্ছেন মাঠে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ শুরু হলেই আশপাশের মানুষ ডালি, চালুন, ছোট জালসহ নানা ধরনের দেশীয় উপকরণ নিয়ে জমির আইল ও চাষের জমিতে নেমে পড়ছেন। পাওয়ার টিলারের ফালে কাদা-পানির মধ্যে থাকা মাছ দুর্বল হয়ে ওপরে উঠে এলে সেগুলো ধরে ফেলছেন তারা। অনেক জমিতে মাছ ধরার জন্য একসঙ্গে বেশ কয়েকজনের উপস্থিতিতে তৈরি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধানখেতসহ নিচু জমিতে আশ্রয় নেয়। আমন ধানের চারা রোপণের আগে জমি চাষের সময় কাদা-পানির সঙ্গে মাছগুলোও ওপরে উঠে আসে। এ সুযোগে অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আমন ধানের চারা রোপণের জন্য কৃষকরা এখন পুরোদমে মাঠে নেমেছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করে জমি প্রস্তুত করছেন তারা। বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে গরুর লাঙলের ব্যবহার অনেকটাই কমে যাওয়ায় কৃষকরা জমি চাষে পাওয়ার টিলার ও অন্যান্য যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। ফলে এ সময়ে পাওয়ার টিলার চালকদের চাহিদাও বেড়েছে।

একটি পাওয়ার টিলার কোনো এলাকায় পৌঁছানোর পর ওই এলাকার একের পর এক জমি চাষ করে দিতে হচ্ছে চালকদের। আর জমিতে টিলার নামার খবর পেলেই মাছ শিকারে আগ্রহী মানুষজন ছুটে আসছেন। 

দহবন্দ ইউনিয়নের ধুমাইটারী গ্রামের নাহিদ হাসান বলেন, জমিতে হাল চাষের জন্য পাওয়ার টিলার আসার খবর পাওয়া মাত্রই এলাকার মানুষজন মাছ ধরার জন্য জমির ধারে উপস্থিত হন। বিশেষ করে নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দেশীয় মাছের স্বাদই আলাদা। তাই সুযোগ পেলেই সবাই মাছ ধরতে মাঠে ছুটে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই অনেকে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছেন।

রামজীবন ইউনিয়নের পাওয়ার টিলারচালক সাজু মিয়া বলেন, মাছ ধরার জন্য মানুষজন জমিতে ও জমির আশপাশে ভিড় করায় দ্রুতগতিতে পাওয়ার টিলার চালানো সম্ভব হয় না। দুর্ঘটনা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ধীরগতিতে জমি চাষ করতে হয়। অসতর্ক হলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 উপজেলা মৎস্য অফিসার মাধব রায় বলেন, হাল চাষের সময় জমিতে থাকা মাছগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সুযোগে অনেকে মাছ শিকার করছেন। বিশেষ করে ছোট ও পোনা মাছও ধরা পড়ছে। এভাবে নির্বিচারে পোনা মাছ শিকার করা হলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। একসময় অনেক দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে। তাই পোনা মাছ না ধরাসহ দেশীয় মাছ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহারে একদিকে যেমন কৃষকের সময় ও শ্রম কমছে, অন্যদিকে জমিতে থাকা দেশীয় মাছ ধরারও সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছোট ও পোনা মাছ শিকার বন্ধে স্থানীয়দের সচেতন করা জরুরি।