মোঃ হাছনাইন
স্টাফ রিপোর্টার

ভোলা সরকারি কলেজের মৃত্তিকা বিজ্ঞানের হিন্দু শিক্ষকের সাথে একই বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অনৈতিক সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগটির সত্যতা পেয়েছে কলেজ প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি। ঘটনার সার্বিক প্রমাণ ও তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ. ঈসরাফীল।

এছাড়া ঘটনার দিন অভিযুক্ত শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শিহাব নামের একটি একাউন্টে ১ লক্ষ টাকা ফান্ড ট্রান্সফারের সত্যতা মিলেছে।

কলেজ প্রশাসন জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শুভ্রত দাসের সাথে একই বিভাগের ৪র্থ বর্ষের এক ছাত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক ও শ্রেণীকক্ষের কিছু বিতর্কিত কথপোকথনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, সংশ্লিষ্ট শ্রেণীকক্ষের প্রমাণাদি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও, অডিও কথোপকথন বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা চিহ্নিত করেছেন। এক ভিডিওতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার দায় স্বীকার করতে ও বিষয়টি নিয়ে আর না বাড়াবাড়ির অনুরোধ করতে শোনা যায়। আরেকটি অডিও কথোপকথনে অনৈতিক সম্পর্কের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পাওয়া যায়।

এর আগে অভিযুক্ত শিক্ষক শুভ্রত দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেছিলেন, “এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসন অবহিত আছে, তাদের কাছেই জানতে চান।”

কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন জানান, “তদন্ত সম্পন্ন করে গঠিত কমিটির সুপারিশসহ যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, কোনো রকমের তদবির, ছলচাতুরি করে শিক্ষকের অপরাধ যেন না ঢাকে। শিক্ষক ও ছাত্রীর চাকরিচ্যুত ও শিক্ষাজীবন বাতিলসহ এইরকম দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।