ওমর ফারুক
বার্তা সম্পাদক


নরসিংদীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা মরহুমা রোকেয়া বেগমের স্মরণে স্মরণসভা, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নরসিংদীর স্পন্দন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মো. বিল্লাল হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-১ (সদর-মাধবদী) আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিমউদ্দীন সরকার। এছাড়া শিলমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ বাদল, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আজিজ মৃধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণসভায় বক্তারা মরহুমা রোকেয়া বেগমের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন। বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন তারা।

রোকেয়া বেগম নরসিংদীর শিলমান্দী ইউনিয়নের একজন প্রতিবন্ধী নারী হিসেবে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালে তিনি শিলমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখার প্রস্তাবও তিনি উত্থাপন করেন।

বক্তারা বলেন, বৈষম্য ও নানা প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে রোকেয়া বেগমের সংগ্রাম ছিল অনুকরণীয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় কাজ করা স্পন্দন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থা ২০০৩ সালে শিলমান্দী ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংস্থাটি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।

অনুষ্ঠান শেষে মরহুমা রোকেয়া বেগমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে স্পন্দন প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।