আবদুর রহমান
সম্পাদক

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে জাপানের আরও সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপান সরকারের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া। বৈঠকে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাত শাধিন বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত হলে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাপানের বিশেষ দূতের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে সাসাকাওয়া জানান, তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সংকট সমাধানে মিয়ানমার সরকারের আন্তরিকতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে রাখাইন রাজ্যের জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হচ্ছে। সংকট সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাপান দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা ও বিভিন্ন অনুদান দিয়ে আসায় প্রধানমন্ত্রী জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

আলোচনায় বাংলাদেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ বিষয়ে জাপানের বিশেষ দূতের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। সাসাকাওয়া এ উদ্যোগে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে আগ্রহী এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার আগ্রহের কথাও জানান তিনি।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রথম প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্রবিষয়ক দ্বিতীয় প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ৭ সেপ্টেম্বরও সাসাকাওয়া নেতৃত্বাধীন জাপানি প্রতিনিধিদল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সেখানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে থাকা রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা, আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ঘাটতি এবং দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।