
আবদুর রহমান
উপকূলীয় ১৪ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বন্যা, লবণাক্ততা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে সুরক্ষা দিতে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ রয়েছে। এর আওতায় উপকূলীয় এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং দুর্যোগঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবনমান ও কর্মসংস্থান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।
এ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে রোববার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমের নেতৃত্বে নয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে Bangladesh Strategic Flood Resilience Program (Flood MPA) এবং Coastal Resilience Project-এর আওতায় চলমান ও প্রস্তাবিত কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব পায় উপকূলীয় অঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন।
বৈঠকে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে সরকার আগ্রহী।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় উপকূলীয় ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগঝুঁকি হ্রাসে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা লবণাক্ততা মোকাবিলায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নয়নের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য পানি শোধন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একদিকে উপকূলীয় মানুষের পানি নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন ও বন্যার দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় সক্ষমতা গড়ে উঠবে।
বৈঠকে পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

