
তানভীর আহমেদ শাওন
শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে যাওয়া তানভীর আহমেদ রাব্বি (৩০)। নরসিংদীর বোয়াকুড় এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মামলায় দুই অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও নিহতের পরিবারের দাবি, এখনো পলাতক রয়েছেন মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জাহিদ সরকার। তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর বিকাল ৫ ঘটিকায় নিহতের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাব্বিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত কাউকে যেন আইনের আওতার বাইরে থাকতে দেওয়া না হয়। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান তাঁরা।
নিহত রাব্বি নরসিংদী শহরের বোয়াকুড় এলাকায় একটি লাইসেন্সকৃত দেশি মদের দোকানের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর এমপি মাছ বাজারসংলগ্ন ওই দোকানে গিয়ে নিরালা হোটেলের মালিক জাহাঙ্গীর সরকার ১০ লিটার মদ বিনামূল্যে দাবি করেন। রাব্বি তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর জোর করে মদ নিয়ে চলে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলে জাহাঙ্গীরের ছেলে জাহিদ সরকার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে দোকানে যান। সেখানে রাব্বির শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গুরুতর দগ্ধ হন রাব্বি।
প্রথমে তাঁকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের মা মিনু বেগম বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার, তাঁর ছেলে জাহিদ সরকার এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় জাহিদের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত কাজী তৌফিক আহমেদ পিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে শহরের বানিয়াছল বালুর মাঠ এলাকার একটি সুরক্ষিত ঘর থেকে জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত জাহিদ সরকার এখনো গ্রেপ্তার হননি। তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনের বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা তিনটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো— পলাতক অভিযুক্ত জাহিদ সরকারকে দ্রুত গ্রেপ্তার, মামলার তদন্ত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, একজন মানুষের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। নিহত রাব্বির পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
রাব্বির মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পরিবার এখন বিচারের অপেক্ষায়। তাঁদের প্রত্যাশা, মামলার তদন্ত দ্রুত এগোবে, পলাতক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হবেন এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবেন।

