তানভীর আহমেদ শাওন
বিশেষ প্রতিনিধি

নরসিংদী সদর উপজেলার কিসমত বানিয়াদী এলাকায় সরকারি লিজের জায়গা ও পৈতৃক সম্পত্তির দখল নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলায় গুরুতর আহত দেখিয়ে যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ‘মুমূর্ষু’ অবস্থায় রেফার্ড করার কথা বলা হয়েছিল, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি ঢাকায় না গিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালেই ভর্তি ছিলেন এবং পরে রিলিজও পেয়েছেন। এছাড়া বাদী পক্ষের প্রধান মো. অলিউল্লাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
উভয় পক্ষের সংঘর্ষে নারী ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অব্যবহৃত বুলেট ও খোসা উদ্ধার করেছে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে বাদী মো. অলিউল্লাহ দাবি করেছিলেন, গত ২৩ অক্টোবর প্রতিপক্ষের হামলায় তার চাচা শহীদুল্লাহ (৬৫) গুরুতর আহত হন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, শহীদুল্লাহ ঢাকায় না গিয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে ২২ অক্টোবর ভর্তি হন এবং ২৪ অক্টোবর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরেন। অথচ এলাকায় প্রচার করা হয়েছিল তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে মামলার বাদী অলিউল্লাহর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে কারাগারে প্রেরণের বিষয়টি জানা যায় এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে রাজি হননি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কিসমত বানিয়াদী মৌজার প্রায় ১৫০ শতাংশ সরকারি জায়গা দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন অলিউল্লাহরা। গত ৪ অক্টোবর সরকারি ফি পরিশোধ করে লিজ নবায়ন করার পর জমিতে সাইনবোর্ড ও বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। গত ২৩ অক্টোবর প্রতিপক্ষ হিরন মীর, হরমুজ মীর ও তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এছাড়া মিল ভাঙচুর ও ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটের দাবি করা হয়।
অপরদিকে হরমুজ মীর ও রহিম মীরের দাবি, প্রতিপক্ষরা জোরপূর্বক তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ও বাড়িঘর দখলের জন্য ভাড়া করা সন্ত্রাসী ও জামায়াত কর্মীদের নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দোকানপাট লুটপাট, স্বর্ণালংকার ও দুটি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

হামলার শিকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমান মীর ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া মীর জানায়, টেস্ট পরীক্ষার আগমুহূর্তে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের বোন ফারিয়ার মাথায় গুলি ও ভাইকে কোপানোর অভিযোগ করা হয়। ৯৯৯-এ কল করেও তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থীরা।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, গত ২৬ তারিখে ফিজিক্যাল এসল্ট নিয়ে মোট ৯ জন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে শহীদুল্লাহ ও অলিউল্লাহসহ অন্যরা চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আশিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল থেকে দুটি অব্যবহৃত বুলেট ও একটি জং ধরা খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ভিকটিমদের মেডিকেল সার্টিফিকেট ও ফরেনসিক পরীক্ষার পরই নিশ্চিত করা যাবে সেখানে প্রকৃতপক্ষে গুলির ব্যবহার হয়েছিল কি না। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে পুলিশ।