আহসানুল হক নয়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৩০ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ফলের দোকানে হামলার ঘটনায় আবেদ মিয়ার করা এজাহার। অন্যদিকে মোস্তফা সরকার শিকলের লিখিত অভিযোগে আসামিদের নামের পার্থক্য ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

নথি অনুযায়ী, সেলিম সরকার ও আবেদ মিয়ার মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। একটি মামলায় আবেদ মিয়ার পক্ষে রায় এসেছে বলে তাঁর পক্ষের দাবি। আগামী ৯ নভেম্বর মামলাটির শুনানির কথা রয়েছে। আবেদ মিয়ার পক্ষের অভিযোগ, শুনানির আগে পরিস্থিতি জটিল করতে ৩০ অক্টোবর তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে কয়েকজন আহত হন।

অন্যদিকে, শিকলের অভিযোগে সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাহিদ সরকার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ নিয়ে আবেদ মিয়ার পক্ষের প্রশ্ন, ৩০ অক্টোবর সরাসরি মারামারি হয়ে থাকলে প্রথম এজাহারে আবেদ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের নাম নেই কেন? আবার নাহিদ সরকার নিজে হামলায় জড়িত থাকলে প্রথম এজাহারে তাঁর নামও নেই কেন, অথচ অভিযোগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম এসেছে? তাঁদের দাবি, শিকলের পুরোনো মামলার আসামির তালিকার সঙ্গেও নতুন অভিযোগের নামের মিল রয়েছে। বিষয়টি দুই মামলার কপি পাশাপাশি রেখে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এ ছাড়া শিকলের অভিযোগে রতন মুন্সির নামও রয়েছে। রতন মুন্সি ও তার পরিবার জানান, , ভাই ভাই মার্কেটের যে জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছে। তাঁদের দাবি মার্কেটি পৈতৃক সম্পত্তি এবং শিকল ও তাঁর পরিবার সেখানে দখলে রয়েছেন। এ জমি নিয়েও আদালতে মামলা চলমান; আগামী ১১ নভেম্বর শুনানির কথা রয়েছে। জমির মালিকানা ও দখলের বিষয়টি আদালতের চুড়ান্ত রায়ের পরই জানা যাবে প্রকৃত জমির মালিক কে।

শিকলের দেওয়া ৩০ তারিখ ভাই ভাই মার্কেটে হামলা ভিডিও নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের দাবি, ভিডিওটি ৩০ অক্টোবরের নয়, বরং আগের কোনো ঘটনার। এ ছাড়া জমিসংক্রান্ত দুই মামলার শুনানিকে প্রভাবিত করতে অর্থের বিনিময়ে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে পুলিশের সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করলেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।