
মোঃ তারেক মিয়া
মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই খাল-বিল ও জলাশয়ের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কৃষকেরা। সেচের পানির সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
বৃহস্পতিবার (৫ই নভেম্বর ) কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগাম পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বিকল্প উপায়ে সেচের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বাড়বে উৎপাদন খরচ। কোথাও কোথাও পানির অভাবে ফসলের জমি শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
কৃষকদের মতে, সময় মতো সেচের পানি না পেলে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। শ্রীহাইল গ্রামের কৃষক সুকেল মিয়া বলেন এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে যাব আমরা দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের কৃষকেরা ।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে সেচের পানির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি খাল-বিল ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ অবস্থায় কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান শাল্লার কৃষকের । শাল্লা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শুভজিৎ রায় বলেন এ বছর হাওরের পানি তুলনামূলক আগাম নেমে যাওয়ায় কিছু জমিতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে জমি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বোরো আবাদে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে বলা যাবে। কৃষকদের স্থানীয় আবহাওয়া, জমির অবস্থা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী বীজতলা তৈরির প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বীজতলা তৈরি ও বোরো আবাদসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

