আবদুর রহমান
সম্পাদক

পরিবর্তনশীল বিশ্বে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং আঞ্চলিক সংহতির বার্তা দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আইক্যাপ (ICAPP)। সম্মেলনে জাতীয় রাজনীতিতে জনগণের সম্মতি ও আস্থাকে বৈধতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও সম্মতি ছাড়া কোনো সরকার বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব বৈধতা দাবি করতে পারে না।’

গত ৪ নভেম্বর শুরু হওয়া এ সম্মেলন আজ ৬ নভেম্বর শেষ হয়। এতে এশিয়ার ৩৯টি দেশের ৯২টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ থেকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংলাপ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সম্মেলনে এনসিপি প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে ‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে আস্থা পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, তরুণদের ক্ষমতায়ন ও আঞ্চলিক সংহতি’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে বক্তব্য দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন।

গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। রাজনৈতিক দল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আজকের সিদ্ধান্ত আগামী ১০, ১৫ কিংবা ২০ বছরের পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে, যার বাস্তবতা মোকাবিলা করতে হবে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে। তাই রাজনৈতিক দল, সংসদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’

আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে তিনি আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জাতীয় স্বার্থ ও নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে সব দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, জলবায়ু অভিযোজন, আন্তসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্য জলবায়ু অর্থায়নে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়, যেখানে ক্ষমতাকে দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে, নেতৃত্ব জবাবদিহির আওতায় থাকবে এবং প্রতিটি প্রজন্ম নিজের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে অর্থবহ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবে।

সম্মেলনের শেষ দিনে ‘সিউল ডিক্লারেশন’ পাঠ করা হয়। পাশাপাশি পরবর্তী আইক্যাপ সম্মেলন ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।