নিউজ ডেস্ক
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ৬ লাইনে উন্নীতকরণে প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম চলমান। উন্নীতকরণে জমি অধিগ্রহণে যে আইন রয়েছে আসল মূল্যের ৩ গুণ দাম; তাতে আপত্তি জানিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মরজাল বাসস্ট্যান্ডে মরজাল মৌজার অন্তর্ভুক্ত মরজাল সমতা বাজারের সকল ভুমি মালিকগণ স্মারক লিপি প্রদান করেছে নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর এবং উপযুক্ত মূল্য বা ক্ষতিপূরণ দাবীতে মানববন্ধন করেছে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।
বুধবার ৭ আগস্ট সকালে মরজাল সমতা বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ নরসিংদী জেলা প্রশাসক বরাবর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবীতে স্মারক লিপি প্রদান ও মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন।
স্মারক লিপি প্রদানের পর মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মরজাল ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, রায়পুরা উপজেলা যুবদল এর যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক ছাত্রনেতা কামাল হোসেন রবি, আশরাফুল আলম মোখলেস, ফজলু মিয়াসহ আরো অনেকে।
এসময় উপস্থিত বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে ৬ লাইনে উন্নীতকরণে প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম চলমান। উন্নীতকরণে জমি অধিগ্রহণে যে আইন রয়েছে আসল মূল্যের ৩ গুণ দাম কথা থাকলে এই টাকা দিলে তাদের পথে বসতে হবে।
এখানে ভুমির মালিকগণ কেউ পূর্ব হতে জমিদার নন! অনেকেই তাদের এইটুকুন জমি নিজের পৈতৃক ভিটা-বাড়ি বিক্রি করে এখানে জায়গা ক্রয় করেছে। কেউবা নিজের অর্জিত সম্পদ এখানে ব্যয় করে দোকান ক্রয় করেছে। আবার প্রবাসে কামানো সবকিছুই এখানে ইনভেস্ট করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ডাল-ভাত খেয়ে পরে বেঁচে আছে। এখন রাষ্ট্রীয় কাজে আমাদের বাঁধা দেয়ার অধিকার নেই আমাদের। কিন্তু অধিগ্রহণের নিয়ম মানলে আমাদের পথে বসা ছাড়া গতি নেই। প্রতি শতাংশের মূল্য ১.৮০ হাজার টাকার ৩ গুণ; অথচ বর্তমানে বাজার মূল্য মরজালে প্রতি শতাংশ জমির দাম ৬০ লক্ষ টাকা হতে ৮০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আছে।
আমরা ভুমি মালিকগণ ব্যবসায়ী কাজের জন্য দোকান-পাট নির্মাণ করে কেউ ভাড়ার মাধ্যমে আবার কেউ নিজে ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে পরিবারের ভরণ-পোষণ করে আসছি। কিন্তু ১২/২০২১-২০২২নং এল.এ কেসের যৌথ তদন্তের তালিকায় আমাদের উক্ত দোকান গুলোকে ভিটি ও বাড়ি শ্রেণি দেখানো হয়েছে।
তাছাড়া বাৎসরিক খাজনা ও বিদ্যুৎ বিল আমারা বাণিজ্যিক হারে পরিশোধ করে আসছি। এমতাবস্থায় যদি শ্রেণি পরিবর্তন না করা হয় তাহলে ভুমি মালিকগণ ব্যপক ক্ষতির সম্মোখীন হবে। কেননা মরজাল সমতা বাজারের ভুমির বর্তমান মূল্য অর্ধ কোটির অনেক বেশি। উপযুক্ত মূল্য না পেলে আমরা পথে বসে যাবো। আমরা চাই এই মূল্য যাচাই এর ক্ষেত্রে বাজারের বিক্রিত ভূমির দলিলা মূল্য যাচাই করতে হবে; মৌজার মূল্য নয়। আমরা স্মরক লিপিতে কিছু নথিপত্র দাখিল করেছি; তা দেখলেই আমরা কতোটুকু ক্ষতির সম্মোখীন হবো কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারবে।
নরসিংদী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ হোসেন চৌধুরী ও তাদের আশা পূরণের আশ্বাস প্রদান করেছেন।
এসময় মরজাল সমতা বাজার সমিতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন শামসুল হক মোল্লা, মোহাম্মদ আলী, কবির হোসেন, কামাল হোসেন, ইকরামুল হাসান, শাওন খান, বিল্লাল খান, নিখিল মোদক, নুরুজ্জামান মোল্লা, লিটন মিয়া, আফসার উদ্দিন মাস্টার, আকরাম হোসেন, হাবিবউল্লাহ, মাসুদ মিয়া, ওয়াসিম, ফজলুল হক, কবির হোসেন, আবু সায়ীদ, সাগর বাদশা, মিন্টু মিয়া, গোলাপ মিয়া, কাউছার মিয়া, মোহাম্মদ আলী, রুহুল মোল্লা, লোকমান খান, নাইমুর রহমান খান প্রমূখ।

