
বিজয় কর রতন
আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্ৰামের হাওর অঞ্চলে বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার প্রভাব এখন পড়েছে কৃষকের গোয়াল ঘরে । ঘরে ধান না উঠার পাশাপাশি গরুর প্রধান খাদ্য খড় ও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। গবাদি পশুর খাবারের অভাবে অনেকেই কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
মিঠামইন উপজেলার বিভিন্ন গ্ৰাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা পচে যাওয়া ধান ও খড় শুকিয়ে কোন ভাবে সংরক্ষনের চেষ্টা করছেন। কিন্তু অধিকাংশ খড় পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা গবাদি পশুর খাবার হিসাবে ব্যবহার করা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন। বছরের বাকি সময় গরুকে কি খাওয়াবেন, সেই চিন্তায় অনেকেই আগে ভাগে গরু বিক্রি করছেন।
উপজেলার হেমন্তগঞ্জ গ্ৰামের কৃষক সজিব মিয়া বলেন,ধান তো গেলোই , খড় ও রইলো না। গরু রাখলে খাওয়াবো কী? তাই বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছি। তিনি জানান, প্রায় ১ লাখ টাকা দামের একটি গরু ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।
অন্যদিকে রানীগঞ্জ গ্ৰামের কৃষক সোহাগ মিয়া বলেন, সারাবছর গরু পালন করি লাভের আশায়। কিন্তু এবার খড় না থাকায় গরু পালন কঠিন হয়ে গেছে । প্রত্যেক বাজারে অনেক কৃষক এক সঙ্গে গরু বিক্রি করতে আসায় দাম ও কমে গেছে।
সড়কের পাশে স্কুলের মাঠের কোনায় পচা খড় শুকাচ্ছিলেন কৃষক মমিন মিয়ার স্ত্রী জামেলা তিনি বলেন, “তিনি বলেন মাদানে রানবার চাল নাই ঘরো,গরুর খাওন কই থেইক্কা দিমু, এর লাগি কম টেহাই গরু বেইচ্চা দিছি” ৩ খের জমির মধ্যে ১ খের ২৮ শতাংশ ডুইব্বা গেছে। হেই জমির খড় পইচ্চা গেছে , দেহুন খড়ের অবস্থা। এই খড় গরু ও খাইবো না। লাকড়ির লাগি তুইল্লা তইতেছি। ৯০ হাজার টেহা দামের ৩ ডা গরু ৬০ হাজার টেহায় বেইচ্চে আমার জামাই। খালি আমরার না অনেক গিরসের এ অবস্থা ।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাধারণত বোরো মৌসুমে যে খড় সংগ্ৰহ করা হয় , তা দিয়েই সারাবছর গবাদি পশুর খাদ্যের বড় অংশের চাহিদা পূরণ হয় । কিন্তু এবার আগাম বন্যায় খড় নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কেউ সংসারের খরচ চালাতে, আবার কেউ গো- খাদ্যের সংকটের আশংকায় গরু বিক্রি করছেন।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মানিক মিয়া বলেন,হাওর পাড়ের অনেক কৃষক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কেউ নৌকায় করে গরু বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। গরু পালন চালিয়ে যাওয়া কৃষকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ অবস্থায় সরকারী ভাবে কৃষকদের জন্য গো- খাদ্য সহায়তা ও সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। তা না হলে অনেক কৃষক আগামী বুরো মৌসুমে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না।
মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি নাজমুল হাসান ভুইয়া জানান, বর্তমানে গো – খাদ্যের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে গরু ধরে রাখলে আরো লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। ঠিকমত খাবার না পেলে গরুর ওজন কমে যাবে এবং পরবর্তীতে আরো কম দামে বিক্রি করতে হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোঃ হিজেল মাহমুদ বলেন , উপজেলায় গো – খাদ্যের সংকট হয়েছে আমরা ২৫ হাজার টন খাদ্যের চাহিদা রয়েছে । বলে কতৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট পাঠিয়েছি। অন্যদিকে আসন্ন কোরবানির জন্য ৯ হাজার ১১ টি গরু প্রস্তুত রয়েছে । তবে তার চাহিদা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকরা গো – খাদ্যের সংকটের কারণে কম মূল্যে গরু বিক্রি করে দিচ্ছে।

