আবদুর রহমান
সম্পাদক

ছয় দফা দাবি আদায়ে শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ কর্মসূচি। এর আগে সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চের গাড়িবহর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যায়। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ড, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহিপাল এবং মীরসরাইয়ে পথসভায় অংশ নেয় জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

পথসভাগুলোতে কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে যুক্ত হন। ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চের নির্ধারিত রুটের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যায়।

১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফার মধ্যে অন্যতম হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার। এর পাশাপাশি রয়েছে বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবি।

জোটের নেতারা বলছেন, এসব দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় সরাসরি যুক্ত। এ কারণে দাবিগুলো নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

দিনভর মহাসড়ক ধরে এগিয়ে আসা লংমার্চের চূড়ান্ত রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হয় চট্টগ্রামের লালদীঘি। সেখানে সমাপনী মহাসমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

লালদীঘির জমায়েত থেকে সরকারের প্রতি দাবি বাস্তবায়নের আহ্বানের পাশাপাশি আন্দোলন দমনের চেষ্টা হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি এখানেই থামছে না। ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর পর্যায়ক্রমে রংপুর, খুলনা-কুষ্টিয়া ও সিলেট অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। সবশেষে ঢাকায় বড় সমাবেশের পরিকল্পনাও জানিয়েছে জোট।