
আহসানুল হক নয়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বেআইনিভাবে গ্যাস সংযোগ নিতে বাধা দেওয়ায় ওবায়দুল হক নামের এক ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম, শ্লীলতাহানি, লুটপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এতে নারী-পুরুষসহ পাঁচজন আহত হয়। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানা পুলিশ কোনো অভিযোগ গ্রহণ না করায় বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আশুগঞ্জ আমলী) আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সিআর ৫৮৫/২৬ইং নম্বর মামলা হিসেবে রেকর্ড করেন। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকালে আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা ইউনিয়নের ঠাকুর বাড়ীর সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, চরচারতলা গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে আহত ওবায়দুল হক বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলা দায়ের করেন। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, শফিক, ইতি বেগম, সাজিদ, ঈশা মিয়া, মোশারফ মিয়া, মাসুদ মিয়া, কামরুল মিয়া, পিয়াস, ও সানি মিয়া। আসামিরা সবাই একই এলাকার চরচারতলা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ওবায়দুল হকের মালিকানাধীন গ্যাস লাইন থেকে ১নং আসামি শফিক জোরপূর্বক সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে এতে বাধা দেন ওবায়দুল হক। এরই জের ধরে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র-দা, বল্লম, লাঠি ও রড নিয়ে ওবায়দুল হক ও তাঁর স্বজনদের ওপর অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে হাড়ভাঙা জখম হন। তাছাড়াও হামলাকারীরা এক নারীর শ্লীলতাহানি করে এবং নগদ টাকা ও এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তারা, ভুক্তভোগীর দোকান ও বসতবাড়ির কপাট-জানালা কুপিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়ে আনুমানিক ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, হামলা ও লুটপাট চালিয়েও ক্ষান্ত হয়নি প্রতিপক্ষ আসামিরা। আহতরা যখন চিকিৎসা নিয়ে মামলা করে আবার পুনরায় পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা জন্য হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ছিলেন। তখন উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করতে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে প্রতিপক্ষ। এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

