
মোঃ শাহ আলম
বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে শেফ (কুক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আওয়াল ইসলাম পরবর্তীতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শেফ (কুক) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় নৌবাহিনীতে শেফ হিসেবে দায়িত্বে ফিরে যান। পরে মেডিকেল টেস্ট ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় বলে জানান আওয়াল ইসলাম।
অবসরের পর পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জাদু প্রদর্শন শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলেও তার জাদু প্রদর্শনের অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে বলে দাবি করেন।
আওয়াল ইসলামের অভিযোগ, জাদুশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও বিরোধিতার সম্মুখীন হন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে জাদু প্রদর্শনের সময় তার ওপর হামলা করা হয় এবং এতে তিনি আহত হন বলেও দাবি করেন।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, বাংলাদেশ একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ। তাদের বক্তব্য, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রচলিত জাদু বা ম্যাজিক প্রদর্শনকে অনেক আলেম নিষিদ্ধ বা হারাম হিসেবে বিবেচনা করেন। এ কারণে জাদুশিল্পকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করায় স্থানীয়ভাবে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি ও বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
পরবর্তীতে তার বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন আওয়াল ইসলাম। এসব ঘটনার পর জীবন ও নিরাপত্তার আশঙ্কায় বাংলাদেশ ছেড়ে বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন এবং নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় চেয়েছেন বলে জানান তিনি।
তবে আওয়াল ইসলামের নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালন, বাধ্যতামূলক অবসর, হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ইতালিতে আশ্রয় চাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

