
আহসানুল হক নয়ন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুরায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় তিনজন গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মিলন বাজারে একটি ফলের দোকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিনসহ কয়েকজনকে আটক করেন স্থানীয়রা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘাটুরা সরকার বাড়ি এলাকার আবেদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। এর জেরে আবেদ মিয়ার ফলের দোকানে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় আবেদ মিয়ার ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম সরকারের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। তাঁর নাতি রায়হান মিয়া সরকারের হাত ভেঙে যায় এবং চাচাতো ভাই দানা মিয়া সরকার গুরুতর আহত হন। দানা মিয়ার বুকের তিনটি হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আল-আমিন, সেন্টু মিয়া সরকার, নাজমুল সরকারসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আহতরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আল-আমিন ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে গিয়ে ফের হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার আল-আমিন সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঘাটুরা (সরকার বাড়ি) এলাকার আরজু মিয়া সরকারের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বের মামলা থাকায় শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, আহতদের পরিবারের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করায় তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হামলায় জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, এঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

