আবদুর রহমান
সম্পাদক

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এবার দেশজুড়ে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করল সরকার। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা অভিযান শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মসূচি চলবে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিজেকে সুস্থ রাখি, সমাজকে সুস্থ রাখি।” ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেকে প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতার জন্য সময় দিলে পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তারেক রহমান বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। শতভাগ সমাধান সম্ভব না হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধকে শুধু সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষকে এর সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশ পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে পরিবর্তন সম্ভব। এবার রাষ্ট্রকে পরিবর্তন করি।” তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে দেশ গঠন করতে চাইলে কোনো বাধাই তা ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবারের কর্মসূচিকে কেবল মশক নিধন কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত ও আশপাশে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে নিয়মিত নজর দেওয়ার পাশাপাশি এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীও এর আগে বলেছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের মূল জায়গায় রয়েছে নাগরিক অংশগ্রহণ। শুধু সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ কমানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আগেই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদেরও ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ডেঙ্গুর বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে ঠেকাতে পারে।

মাঠে থাকবে সবাই

তিন মাসের এই কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। লক্ষ্য হচ্ছে—এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে দ্রুত ধ্বংস করা এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা তৈরি করা।

ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির মধ্যেই এই অভিযান শুরু হলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে দেশে ৪৯ হাজার ২২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং ১৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৯০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন দুজন।

ফলে এবারের তিন মাসের অভিযানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নয়; নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসকে দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসে পরিণত করা।